ইমরানপন্থী খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীকে ‘আটক’

খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি (বাঁয়ে) ও পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখোয়া শাখার সভাপতি জুনায়েদ আকবর। ছবি কোলাজ : সংগৃহীত
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি ও প্রাদেশিক পিটিআই সভাপতি জুনায়েদ আকবরকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটি এ ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে সোহাইল আফ্রিদিকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলায় ‘ওয়ান্টেড’ কয়েকজনকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আটক করা হয়েছে।
পিটিআইয়ের মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নির্বাচিত নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এসব আটক করা হয়েছে।
এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি ও জুনায়েদ আকবরকে আটকের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশ পেয়েছে।’
তার অভিযোগ, নিরাপত্তা সমস্যা মোকাবিলার জন্য এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং পিটিআইকে দুর্বল করা এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার নির্বাচিত সরকারকে চাপে রাখাই এর উদ্দেশ্য।
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জিও নিউজকে বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে সোহাইল আফ্রিদিকে আটক করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানিয়েছেন, কয়েকজনকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, ‘আমরা কাউকে গ্রেপ্তার করলে তা প্রকাশ করব। আমাদের লুকানোর কিছু নেই।’
এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি ব্যবস্থা ও গভর্নর শাসন জারির সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর রাজনৈতিক ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রবিবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। পরে মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুমোদন করেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকারের ঘাটতির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমন সময় এসব ঘটনা ঘটছে, যখন কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআই নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের চলমান লংমার্চ ঘিরেও উত্তেজনা রয়েছে।
সূত্র : জিও নিউজ




