গোপনে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান?

পাকিস্তানের লাহোরের কাছে ওয়াঘা সীমান্তে অবস্থিত পাকিস্তান-ভারত যৌথ চেকপোস্টে পাকিস্তান রেঞ্জার্স এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সৈন্যরা নিজ নিজ জাতীয় পতাকা নামাচ্ছেন। ছবি : সংগৃহীত
২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিন্দুর নামে সামরিক অভিযান চালায় ভারত। এ বছর দিল্লির নেতারা যখন যুদ্ধের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক মতাদর্শের অন্যতম প্রভাবশালী এক তাত্ত্বিক ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
একটি ভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে বলেছেন, নয়াদিল্লির পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের পথ খোজা করা উচিত। আরএসএস হলো হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী হিন্দুত্ব দর্শনের মূল কেন্দ্র, যা মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিকে রাজনৈতিক পথে পরিচালিত করে।
তিনি বলেছেন, আমাদের দরজা বন্ধ করা উচিত নয়। আমাদের সবসময় সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
এ মন্তব্যের পরেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় ওঠেছে। বিরোধী দলগুলো আরএসএস-এর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং উল্লেখ করেছে, এটি মোদির প্রকাশ্য অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।
মোদি এবং তার সরকার বারবার বলেছে, সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। ইসলামাবাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সংলাপের বিরোধিতা করেছে বিজেপি।
ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও বিভিন্ন শহরে হামলাকারী যোদ্ধাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে।
এদিকে, আরএসএস সম্পাদকের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, আলোচনার আহ্বানের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কিনা, ইসলামাবাদ তা দেখার জন্য অপেক্ষা করবে।
ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকেই এই আরএসএস নেতাকে সমর্থন করেছেন। তাদের ধারণা, নয়াদিল্লি হয়তো পাকিস্তানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশদুটির মধ্যে কূটনৈতিকভাবে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার যৌক্তিকতা বাড়ছে এবং তারা ইতোমধ্যে নীরবে এ দিকে ছোট ছোট পদক্ষেপও নিয়েছে।
দিল্লির বেসরকারি মহল থেকে নতুন করে সংলাপের জন্য চাপ দেওয়া হলেও ভারত ও পাকিস্তান প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা






