কতটা ভয়ংকর মার্কিন মহাবোমা
- প্রথম প্রয়োগ আফগানিস্তানে

প্রায় এক দশক। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল। আফগানিস্তানের নানগারহারে জঙ্গিদের সুড়ঙ্গঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভয়ংকর এক বোমা। নাম ‘মাদার অব অল বোম্বস’, অর্থাৎ ‘সব বোমার মা’। পরমাণু অস্ত্র নয়। তবু বিস্ফোরণের ধ্বংসক্ষমতা বিপুল। ৯ বছর পর সেই অস্ত্রই আবার আলোচনায়। এবার সম্ভাব্য নিশানা ইরান। দেশটির পরমাণু ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনায় বোমাটি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। কী এই মার্কিন মহাবোমা? কতটা শক্তিশালী, আর কোথায় তার সীমাবদ্ধতা?
গতকাল বৃহস্পতিবার সিএনএনের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন হামলার নির্দেশ দিলে এই অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প রয়েছে। তবে হামলা কিংবা বোমাটির ব্যবহার কোনোটিই চূড়ান্ত হয়নি।
বোমাটির আনুষ্ঠানিক নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। নামের আদ্যক্ষর থেকে সংক্ষেপে ‘মোয়াব’। সেটিই জনপ্রিয় হয়েছে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে। ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কিলোগ্রাম। দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ টন বিস্ফোরক রয়েছে। উপগ্রহনির্ভর নির্দেশনায় লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায় অস্ত্রটি। প্রবল বিস্ফোরণ ও চাপতরঙ্গ দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
এর বিস্ফোরণকে পরমাণু বোমার সমান ভাবার সুযোগ নেই। নামের কারণে ভুল ধারণা তৈরি হলেও এতে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ায় না। কিন্তু বিকট চাপতরঙ্গ এবং বিস্তৃত ধ্বংসস্তূপের নিচে সাধারণ মানুষের প্রাণ বিপন্ন হতে পারে।
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের প্রাক্কালে তৈরি হয় বোমাটি। কিন্তু তখন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি। এর আকার এত বড় যে, সাধারণ যুদ্ধবিমানের বদলে বিশেষ সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজ থেকে ফেলতে হয়। আফগানিস্তানে প্রথম হামলায় লক্ষ্য ছিল ইসলামিক স্টেটের আফগান শাখার ব্যবহৃত গুহা ও সুড়ঙ্গের জাল। মার্কিন বাহিনীর দাবি, অভিযানে জঙ্গিদের অবস্থান ধ্বংস হয়েছে। তবে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিতর্কও দেখা দেয়।
নামের বিপরীতে অস্ত্রটির বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি গভীর ভূগর্ভে শক্ত পাথর বা কংক্রিট ভেদ করার বিশেষ বোমা নয়। সে কাজে যুক্তরাষ্ট্রের আলাদা ভূগর্ভভেদী অস্ত্র রয়েছে। তাই ইরানের পাহাড়ের নিচে সুরক্ষিত পরমাণু স্থাপনা ধ্বংসে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারাই। জনবসতির কাছে ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি প্রবল। ফলে প্রশ্ন শুধু বোমার শক্তি নিয়ে নয়। আরেকটি বিস্ফোরণ কি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে, নাকি ধ্বংসের পরিধিই বাড়াবে?



