ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউসের হামলার পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার ৫

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিন। একইদিনে হোয়াইট হাউসে চলছিল একটি মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা। সেই আয়োজনে স্নাইপার ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিয়ে করা হয়েছিল হামলার পরিকল্পনা। তবে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে এফবিআই। এ ঘটনায় চারটি অঙ্গরাজ্য থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।
আদালত বলছে, ড্রোন ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল হামলাকারীরা। এরপর পালিয়ে যাওয়া জনতাকে স্নাইপার দলের দিকে ঠেলে দেওয়ার কথা ছিল তাদের। পরে হোয়াইট হাউসের ফটকে হামলা চালাত আরেকটি দল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন টাইসেন প্রপার, ব্রায়ান রোয়া, মাইকেল থমাস, ড্যানিয়েল এসক্রিজ ও আব্রাহাম আলভারেজ। ওহাইও, মিসৌরি, নেব্রাস্কা ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আটক করা হয়েছে তাদের। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ওহাইও থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ১৯ বছরের টাইসেন প্রপারকে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র এবং এক ফেডারেল কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করা হয়েছে পরিকল্পিত হামলা।’ এটিকে একাধিক অঙ্গরাজ্যজুড়ে পরিচালিত একটি অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
গত রবিবার ওই প্রতিযোগিতায় ছিলেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ মানুষ। কাছাকাছি একটি দর্শক এলাকায় অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন আরও প্রায় ৮৫ হাজার জন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একের পর এক লড়াইয়ে অংশ নেন ১৪ জন মার্শাল আর্ট যোদ্ধা।
তদন্তকারীরা জানান, টাইসেন প্রপারের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। একটি অনলাইন গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি, যাদের মধ্যে চরম ধর্মীয় ও সরকারবিরোধী মনোভাব ছিল। গত ১০ জুন প্রপারের মা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। ছেলের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কেনা এবং সাবেক সামরিক সদস্য ও খ্রিস্টানভিত্তিক বলে দাবি করা একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি।
আদালত বলছে, গোষ্ঠীটির লক্ষ্য ছিল চিহ্নিত ধনী ব্যক্তি ও রাজনীতিকদের ওপর হামলা চালিয়ে একটি বিপ্লবের সূচনা করা। সরকারি দুর্নীতি, এপস্টেইন নথিপত্রের ব্যবস্থাপনা, তথ্যকেন্দ্রগুলোর কারণে স্থানীয় এলাকায় পানির সংকট এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ ছিল তাদের।
১১ জুন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন প্রপার। তিনি জানান, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ‘ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড’ নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে সদস্যদের যোগাযোগ শুরু হয়। পরে তাদের অনেকেই এনক্রিপ্টেড বার্তা আদান-প্রদানের একটি মাধ্যমে যুক্ত হন এবং সেখানে চূড়ান্ত করেন হামলার পরিকল্পনা।
মঙ্গলবার এক পৃথক ব্রিফিংয়ে ঘটনাটিকে ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন সিক্রেট সার্ভিসের উপপরিচালক ম্যাট কুইন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।
‘আমি শুধু বলতে পারি, শুরু থেকেই এই তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। তদন্ত চলছে এখনো। তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিষয়টি প্রকাশ করিনি আমরা।’
তবে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু শুনিনি আমি।’
অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জনগণকে বিষয়টি জানিয়েছে কারণ পরিকল্পিত হামলার ব্যাপ্তি ছিল অনেক বড়।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক এরিকা ফ্রান্টজ বলেন, ‘সমাজে সব সময়ই কিছু অসন্তুষ্ট মানুষ থাকবে, যারা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও চরমপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী। নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের চেয়ে মানুষকে প্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দেওয়া সামাজিক শক্তিগুলো নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন আমি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি চক্রাকারে ছড়িয়ে পড়ে। একটি সহিংস ঘটনা প্রায়ই আরেকটি সহিংস ঘটনার জন্ম দেয়।’
এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে আগের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও বেশি।




