বিশ্বকাপ
এমবাপ্পের জোড়া গোলে ফ্রান্সের জয়
- ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোল এখন এমবাপ্পের

সংগৃহীত ছবি
সিংহকে হারিয়ে দিল মুরগি! সত্যি সত্যি এমনটা হওয়া হয়তো অসম্ভব তবে ফুটবল মাঠে সেটাই সম্ভব হল নিউজার্সিতে। সেনেগাল ফুটবল দলের ডাক নাম তেরাঙ্গার সিংহ আর ফ্রান্স ফুটবল দলের জার্সিতে আছে তাদের জাতীয় প্রতীক মুরগি। ২০২৬ বিশ্বকাপের আই গ্রুপের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে যাত্রা শুরু করল আসরের অন্যতম ফেভারিট দল ফ্রান্স। লে ব্লু'দের দুটি গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, অন্যটি ব্র্যাডলি বারকোলা।
নিউজার্সিতে ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স কিংবা সেনেগাল কোন পক্ষই। ফ্রান্স তারকাবহুল দল হলেও প্রথমার্ধে গোলের পরিষ্কার সুযোগ সেনেগালই পেয়েছে বেশি। একবার বল পোস্টে লাগিয়েছেন নিকোলাস জ্যাকসন, প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও ইসমাইলা সার মেরেছেন বারের উপর দিয়ে। প্রথমার্ধের খেলা শেষে তাই গোলশুন্য সমতা।
শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, তাকে সামনে রেখেই ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজিয়েছেন দিদিয়ের দেশম। অন্যদিকে সাদিও মানে, ইসমাইলা সার আর নিকোলাস জ্যাকসনকে সামনে রেখে ৪-৩-৩ ছকে একাদশ সাজিয়েছেন সেনেগালের কোচ এম পাপে থিয়াউ। ম্যাচে ফ্রান্স শুরু করে কিছুটা হালকা চালে,যার খেসারতটা একটু হলেই দিতে হত চড়া মূল্যে। এমবাপ্পের পা থেকেই বল কেড়ে নিয়ে এল হাজি মালিক দিউফ লম্বা পাস বাড়ান প্রতিপক্ষের ডি বক্সের দিকে, যেটা ধরে ছুটতে শুরু করেন জ্যাকসন। তাকে পাহারা দেয়া দায়ো উপমেকানোকে পেছনে ফেলে জোরাল শট নেন, গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও বলটা পোস্টে লেগে চলে যায় সাইডলাইনের বাইরে। কর্নার পায় সেনেগাল। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটের সঙ্গে ৭ মিনিট ইনজুরি সময় যোগ করেন রেফারি। একদম শেষ মুহূর্তে ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলা সারের শটটা চলে যায় বারপোস্টের উপর দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণে ধার বাড়ায় ফ্রান্স। ডি বক্সের ডান দিক থেকে এমবাপ্পের ঢোকার প্রচেষ্টায় বাধা দেন সাদিও মানে। রেফারি অনেকটা সময় নিয়ে ভিএআর দেখার পর গোল কিকের সংকেত দেন। এর খানিক পরেই, ম্যাচের ৬৬ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে সেনেগালের বিপক্ষে ১-০তে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। মাইকেল অলিসের বাড়ানো লম্বা পাসে মুহূর্তের ভেতর কড়া পাহারা এড়িয়ে বের হয়ে এসে পা লাগিয়ে বলের গতিপথ বদলে দিয়ে গোল করেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার।
নিজের ৯৯তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে এসে জোড়া গোল করে ৫৮ গোলে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন এমবাপ্পে। লুসাইলের সেই রাতে, আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপের শিরোপা খোয়ানোর পর এটাই ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচ, ৪ বছরের ব্যবধানেও বিশ্বকাপে গোল করতে ভোলেননি এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে এই নিয়ে ১৪ গোল হয়ে গেল এমবাপ্পের, মেসির চেয়ে একটা বেশি এই মুহূর্তে। ১৩ গোল করতে মেসির লেগেছে ২৬ ম্যাচ, ১৪ গোল করতে এমবাপ্পের লাগল ১৫ ম্যাচ।
গোলমুখের তালা খুলে ফেলার পর ম্যাচের দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি ফরাসিদের। উসমান দেম্বেলেকে তুলে নিয়ে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দেশম মাঠে নামান ম্যাচের ৮০ মিনিটে। নেমেই মিনিট দুয়েকের ভেতর গোলের দেখা পেয়ে যান বারকোলা। র্যাবিওর লম্বা পাস পেয়ে অনেকটা দৌড়ে সেনেগালের গোলরক্ষক মেন্দির মাথার উপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন পিএসজি'র এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
নির্ধারি ৯০ মিনিট শেষে যখন ইনজুরি সময়ের খেলা চলছিল, তখন দারুণ শটে গোল করে ব্যবধান কমান সেনেগালের ইব্রাহিম এমবায়ে। তবে সেটা মাত্র ১ মিনিটের জন্য! ডি বক্সের খানিকটা বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে এমবাপ্পের অসাধারণ গোল ফের ফ্রান্সের ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়। ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স, যে গোলটা ছিল এই বিশ্বকাপের ৫০ তম গোল এবং নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা গোলগুলোর একটা।




