হরমুজের বিকল্প পাইপলাইন সৌদি আরবের
- জ্বালানি সংকট মোকাবিলা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হরমুজ প্রণালি। তেহরানের এই অস্ত্রই সবচেয়ে বড় হুমকি প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে সেটিই এবার দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে উঠেছে আরব ভূখণ্ডে। ইরানের প্রাণভোমরা সেই ‘হরমুজ শক্তি’কে টক্কর দিতেই জলপথটির বাইপাস রুট ‘ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন’ সম্প্রসারণে নড়েচড়ে বসেছে সৌদি আরব। কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল নেটওয়ার্ককেও নিজেদের এই পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে দেশটি। এরই মধ্যে এ নিয়ে দেন-দরবারও চাঙ্গা করেছে সৌদি প্রশাসন। হরমুজ প্রণালি অবরোধ ঘিরে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ ‘বিকল্প রুট’ সামনে আনছে রিয়াদ। এতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই বেশি পরিমাণে তেল পরিবহন করতে পারবে সৌদি ও তার প্রতিবেশী দেশগুলো। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট পাঁচ নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
পাইপলাইনটি দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে শুরু করে লোহিতসাগরের উপকূলে ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত। সম্প্রসারণ বলতে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের পাইপলাইনটির দৈর্ঘ্য বাড়বে, তা নয়; পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। রূপান্তরিত হবে আন্তর্জাতিক তেল করিডরে। বর্তমানে এর পরিবহন ক্ষমতা প্রতিদিন ৭০ লাখ ব্যারেল। সম্প্রসারণে সেখানে আরও ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি পরিবহন বাড়বে।
ওই সূত্র জানিয়েছে, লোহিতসাগরের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহনে পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিবেচনা করছে উপসাগরীয় দেশটি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে আছে সৌদি আরব। দীর্ঘ এ পথে দ্বিতীয় একটি পাইপলাইন সংযুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে আরেকটি সূত্র। বর্তমানের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৮০-এর দশকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পাইপলাইনে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ। এ বিষয়ে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ নাওয়াফ আল-সাবাহ মার্কিন থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিল গ্লোবাল এনার্জি ফোরামের সঙ্গে কথাও বলেছেন গত মাসে। রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, কুয়েতের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সুবিধার্থে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদ্যমান পাইপলাইন ব্যবস্থা কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, তা নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। দুটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েক বছর লাগতে পারে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে। খরচ হতে পারে বিলিয়ন ডলার। এতে পরিবর্তন আসতে পারে সৌদির অপরিশোধিত তেলের দামে বলেও যোগ করে অন্য আরেক সূত্র। ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বিপিডি (ব্যারেল পার ডে) জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশ্ববাজারে বেড়ে যায় সংকট। সঙ্গে জ্বালানির দামও। লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘হার্ডক্যাসল অ্যাডভাইজরি’-এর ম্যানেজিং পার্টনার জায়েদ বেলবাগি জানিয়েছেন, সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারকে নিয়ে নতুন পাইপলাইন করিডর স্থাপনের বিষয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা একটি বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতাকে তুলে ধরে।
আরব আমিরাত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একমাত্র দেশ, যার হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। দেশটি এরই মধ্যে একটি নতুন পশ্চিম-পূর্ব পাইপলাইনের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করেছে। আগামী বছর এটি চালু হলে ফুজাইরাহ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।




