যে ১০ ভূমিকম্পে কেঁপেছিল বিশ্ব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মুহূর্তেই কেঁপে উঠল মাটি। পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পনে মানুষ ছুটল নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। কয়েক সেকেন্ডের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল— প্রকৃতির সামনে মানুষ এখনো অসহায়।
ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে গত বুধবারের দুটি ভূমিকম্প ছিল অন্যতম শক্তিশালী। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রাণহানি ১০ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং এক মিনিটেরও কম সময় পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে ইতিহাসে এর চেয়েও শক্তিশালী কিছু ভূমিকম্প পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।
১০. অরুণাচল প্রদেশ, ভারত
১৯৫০ সালের ১৫ আগস্ট। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আবহে ভারত যখন ব্যস্ত, তখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল হঠাৎ কেঁপে ওঠে। অরুণাচল প্রদেশ ও তিব্বত সীমান্ত জুড়ে আঘাত হানে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার এক বিশাল ভূমিকম্প। পাহাড় ধসে যায়, নদীর গতিপথ বদলে যায়, আর শত শত গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রায় ৭৮০ জন মানুষের মৃত্যু হয়।
৯. আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্র
১৯৬৫ সালে আলাস্কার আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলেও জনবসতি কম থাকায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
৮. ইকুয়েডর
১৯০৬ সালে ইকুয়েডরের এসমেরালদাসে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়।
৭. চিলি
২০১০ সালে চিলিতে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে অন্তত ৫২৩ জন প্রাণ হারান।
৬. কামচাটকা, রাশিয়া
২০২৫ সালে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও কার্যকর সতর্কতা ব্যবস্থা ও কম জনসংখ্যার কারণে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
৫. কামচাটকা, রাশিয়া
তবে ১৯৫২ সালের কামচাটকার চিত্র ছিল ভিন্ন। ৯ দশমিক শূন্যমাত্রার ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামিতে বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
৪. জাপান
২০১১ সালের জাপানের তোহোকু ভূমিকম্প ছিল ৯ দশমিক ১ মাত্রার। পরবর্তী সুনামি পুরো উপকূলীয় অঞ্চলকে বিপর্যস্ত করে এবং ১৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। একই সঙ্গে শুরু হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক সংকট।
৩. ইন্দোনেশিয়া
২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ভূমিকম্পও ছিল ৯ দশমিক ১ মাত্রার। এর ফলে সৃষ্ট ভারত মহাসাগরীয় সুনামি ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং ২ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
২. আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্র
‘গ্রেট আলাস্কান আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত এই ভূমিকম্পটি স্থায়ী হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৪ মিনিট। ৯ দশমিক ২ মাত্রার এই কম্পনে ভূমি কয়েক মিটার পর্যন্ত সরে যায়। পরবর্তী সুনামি এবং ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৩০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আজও এটি উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
১. চিলি
ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কথা যদি বলা হয়, তাহলে যেতে হবে ১৯৬০ সালের চিলিতে। ২২ মে পৃথিবীর বুক কাঁপিয়ে আঘাত হানে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ‘ভালদিভিয়া ভূমিকম্প’। এটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এর কম্পন বিশ্বের বিভিন্ন যন্ত্রে ধরা পড়ে। সৃষ্ট সুনামি শুধু চিলি নয়, হাওয়াই, জাপান ও ফিলিপাইন পর্যন্ত পৌঁছায়। অন্তত ১ হাজার ৬৫৫ জন মানুষের মৃত্যু হয় এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। আজও এটি মানবজাতির রেকর্ড করা ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে পরিচিত।




