গাজায় ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের প্রথম পদক্ষেপই সেনাঘাঁটি

যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের প্রথম পদক্ষেপেই সেনাঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মরক্কোর সেনাদের আবাসনের জন্য ১৫০ সদস্যের একটি অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে গাজার ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায়। গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো চূড়ান্ত হয়নি চুক্তিটি। এটি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরকেল ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়ে কাজ করেছে।
বোর্ড অব পিসের নেতৃত্বে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে আরও রয়েছেন তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফ। বোর্ডের কর্মকর্তা ইমেইলে জানিয়েছেন, গাজা পরিচালনায় গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের জাতীয় কমিটির সঙ্গে কয়েকটি চুক্তি চূড়ান্ত করার শেষ পর্যায়ে রয়েছে বোর্ড। এর একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ-সংক্রান্ত।
পরিকল্পিত ঘাঁটির আয়তন হবে ১০০ মিটার বাই ১২০ মিটার। এটি গাজার যে ৬০ শতাংশ এলাকা সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে, ঘাঁটিটি নির্মাণ করা হবে ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় এক মাইল দূরত্বে। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা রাখা হবে দ্রুত সেনা সরিয়ে নেওয়ার।
জাতিসংঘের প্রস্তাবে গাজার জন্য দেওয়া হয়েছিল একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন। মরক্কো ছোট একটি সেনাদল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি বাহিনীটির আইনি কাঠামো। কবে তাদের মোতায়েন শুরু হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
দ্য গার্ডিয়ানের হাতে আসা আগের চুক্তি পরিকল্পনায় দেখা গেছে, ১৫০ সদস্যের জন্য নির্মাণ করতে যাওয়া এই ঘাঁটি মূলত পাঁচ হাজার সদস্যের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের প্রথম ধাপ। প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে সেনাদের থাকার জন্য তাঁবু, খাট, পরিবহনযোগ্য শৌচাগার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বোর্ড অব পিস বা শান্তি বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীকে সহায়তা করার এ স্থাপনাটি গাজার ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্পের মধ্যে একটি।




