হামাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাকে মুক্তি দিল ইসরায়েল

সংগৃহীত ছবি
দুই বছরেরও বেশি সময় প্রশাসনিক আটক অবস্থায় থাকার পর হামাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পশ্চিম তীরের জ্যেষ্ঠ নেতা হাসান ইউসুফকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকার কাছে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
তার ছেলে আওয়াইস ইউসুফ জানান, ৭১ বছর বয়সী হাসান ইউসুফকে ‘পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনের কাছে মুক্তি দেওয়া হয়’ এবং পরে তাকে রামাল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে বসবাস করেন তিনি।
পশ্চিম তীরে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা হাসান ইউসুফ ১৯৮০-এর দশকে শেখ আহমেদ ইয়াসিন ও মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্য ফিলিস্তিনি সদস্যদের সঙ্গে মিলে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের প্রশাসনিক আটক ব্যবস্থার অধীনে আটক ছিলেন ইউসুফ। ওই সময় হামাসের ইসরায়েল হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আটক ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এই ব্যবস্থার আওতায় অভিযোগ গঠন ছাড়াই কাউকে ছয় মাসের জন্য আটক রাখা যায় এবং সেই মেয়াদ বারবার নবায়ন করা সম্ভব।
ইসরায়েলের দাবি, তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজনদের আটক রাখা ও হামলা ঠেকাতে এই পদ্ধতি প্রয়োজন। তবে সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে একাধিকবার হাসান ইউসুফকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েল। সর্বশেষ ২০২০ সালের জুলাইয়ে ১৬ মাসের প্রশাসনিক আটক শেষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তাকে।
বিলুপ্ত ফিলিস্তিনি পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য ইউসুফের সঙ্গে তার বড় ছেলে মোসাব হাসান ইউসুফের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। ১০ বছর ধরে তার বাবার সংগঠনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করেছিলেন মোসাব।
১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মোসাব হাসান ইউসুফ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের হয়ে কাজ করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে নতুন পরিচয়ে বসবাস করছেন এবং ‘সন অব হামাস’ নামে একটি বই লিখেছেন।




