ইরানের আধুনিক ইতিহাসের ‘বৃহত্তম শোকযাত্রা’

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশে মানুষের ঢল। ছবি : সংগৃহীত
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি বিদায়ী শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশের ঐতিহাসিক শোকযাত্রা স্থানীয় সময় আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে। শোকগ্রস্ত মানুষের ঢলে ইতোমধ্যে তেহরানের রাস্তাঘাট পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কর্মকর্তারা এটিকে দেশটির আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আজ মূল শোকমিছিলটি আজাদি স্ট্রিট এবং ইয়াদেগারে ইমাম হাইওয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত মাহদিয়া ইমাম হাসান (আ.) থেকে আজাদি স্কয়ারের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও সাইয়্যেদাহ বুশরা হোসাইনি খামেনি, ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকিরী-কানি, জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির মরদেহ বহনকারী গাড়িটি শোকাহত অনুসারীদের আবেগঘন ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আজাদি স্কয়ারের দিকে এগিয়ে যায়।
আয়োজকরা আশা করছেন, এই ঐতিহাসিক মিছিলটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা স্থায়ী হবে। শোকযাত্রার প্রধান পথ নির্ধারণ করা হয়েছে তেহরানপার্স চৌরাস্তা, দামাভান্দ সড়ক, ইমাম হোসেইন (আ.) চত্বর, ইনকিলাব সড়ক ও চত্বর, আজাদি সড়ক ও চত্বর এবং মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত শহীদ লাশকারি সড়ক। মূল পথের সঙ্গে সংযুক্ত সব মোড় ও সংযোগস্থলকেও শোকমিছিলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
হাতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পতাকা, শহীদ নেতার ছবি, কালো শোক-পতাকা, প্রতিশোধের লাল পতাকা এবং তার মর্যাদা ও অবদানের প্রশংসাসূচক ব্যানার নিয়ে লাখ লাখ মানুষ এই শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। তারা গভীর শোকের সাথে শোকগাথা পাঠ, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক স্লোগানের মাধ্যমে তাদের প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন। জনসাধারণের সুবিধার্থে শোভাযাত্রার পুরো পথ জুড়ে জনগণের নিজস্ব উদ্যোগে অসংখ্য সেবাকেন্দ্র (মাওকেব) এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী দল শোকাহতদের আপ্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছে।
রবিবার গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি শহীদ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। এর আগে, তাকে শ্রদ্ধা জানাতে গত শুক্রবারই রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, তাজিকিস্তান ও তুরস্কসহ বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছান।
তেহরানের এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী জানাজা ও শোক মিছিল আগামীকাল পবিত্র নগরী কোমে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বুধবার ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালাতেও শহীদ নেতার পবিত্র মরদেহের বিশেষ বিদায় ও জানাজা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অবশেষে শহীদ নেতার ওসিয়ত বা শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার মাশহাদে জানাজা শেষে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে তার দাফন হবে।




