আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সাবেক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন। নিজ জন্মস্থান মাশহাদে তাকে কবরস্থ করা হবে।
ইরাকের ঐতিহাসিক কারবালা থেকে ইতিমধ্যে তার মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এরপর জানাজার জন্য জন্য ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে আনা হয় তার নিথর দেহ।
খামেনি ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল শহর। এখানে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বাস করেন। শিয়া মুসলিমরা শহরটিকে পবিত্র হিসেবে মনে করেন।
শিয়াদের যে শীর্ষ ১২ নেতা আছে তাদের একজন ইমাম রেজা। তার কবর এই মাশহাদে অবস্থিত। শিয়াদের বিশ্বাস হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর উত্তরসূরিদের একজন ইমাম রেজা।
খামেনিকে ধর্মীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে তাকে সেখানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইমাম রেজাকে নবম শতকে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা করা হয় বলে বিশ্বাস। এরপর তাকে মাশহাদে দাফন করা হয়।
খামেনির ছেলে ও বর্তমান শীর্ষ ধর্মীয় নেতা মোজতবার জন্মও হয়েছিল মাশহাদে। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জন্ম হয়েছিল শিয়াদের পবিত্র শহরে। ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন ইব্রাহিম রাইসি। এরপর তাকে ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে সমাহিত করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এই হামলায় নিহত হন খামেনি পরিবারের আরও চার সদস্য।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন ঘিরে গত শুক্রবার থেকে তেহরানে নজিরবিহীন আয়োজন শুরু হয়। এদিন গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাখা হয় খামেনির কফিন। সেখানে কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিরা শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের গ্র্যান্ড মোসাল্লার সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। রবিবার তেহরানে জানাজা শেষে সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোয় অনুষ্ঠিত হয় শোকযাত্রা।
এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হয়েছে পবিত্র নগরী কোমে। বুধবার কর্মসূচি সীমান্ত পেরিয়ে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় পৌঁছায়। সেখানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাশহাদে নিয়ে আসা হয় খামেনির কফিন।





