মার্কিন হামলার দাবিতে এখনও নীরব ইরান

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পরও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এলাকায় অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বিস্ফোরণগুলো ঠিক কোথায় ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দর আব্বাস শহরে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বিস্ফোরণগুলো ঠিক কোথায় ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেগুলো শহরের ভেতরে, আশপাশের কোনো এলাকায় নাকি সমুদ্রে ঘটেছে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, দক্ষিণ ইরানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনা এবং সমুদ্রে মাইন পুঁতে রাখার কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি স্পিডবোটকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই নৌযানগুলো হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করছিল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখেই এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে মার্কিন বাহিনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
ইরানে নতুন মার্কিন হামলা
২৬ মে ২০২৬
তার দাবি, এ অভিযান ছিল আত্মরক্ষামূলক এবং মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে এখন পর্যন্ত অস্বীকারও করেনি তেহরান। একই সঙ্গে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি দেশটির সরকার। ফলে ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।
হামলার এই ঘটনার সময়ই কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল। বৈঠকে অংশ নেন ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মধ্যস্থতার দায়িত্বে ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই বলেছেন, পারমাণবিক ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অগ্রসর হওয়ার আগে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন। তবে দ্রুত কোনো চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার ভাষ্য, ‘হয় একটি ভালো চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না।’
হামলার পর ইরান দাবি করেছে, তারা একটি ‘শত্রু স্টেলথ ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটি কোন দেশের ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন সীমান্তেও। ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এরই মধ্যে লেবাননের কয়েকটি এলাকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এখন সবার নজর তেহরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং দোহায় চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে।








