ইরানে নতুন মার্কিন হামলা

ছবি: রয়টার্স
ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় ব্যবহৃত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখেই এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে মার্কিন বাহিনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
এ হামলার সময়ই কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল। বৈঠকে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেন। মধ্যস্থতায় ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান নৌপথ। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই বলেছেন, পারমাণবিক ইস্যুসহ বড় বিষয়ে এগোনোর আগে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন। তবে দ্রুত কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার ভাষ্য, হয় ভালো চুক্তি হবে, না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।
হামলার পর ইরান দাবি করেছে, তারা একটি ‘শত্রু স্টেলথ ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে। তবে সেটি কোন দেশের ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন সীমান্তেও। ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এর পরই লেবাননের কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
নতুন এই সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা কতটা এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।






