লেবাননে হামলা
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

হরমুজ প্রণালি- রয়টার্স
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার জবাবে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আজ শনিবার দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এই ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া তাদের চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, ‘যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে অনবরত ও নির্মম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী। ফলে ওই অঞ্চলের শত শত নিরীহ মানুষ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দখলদার বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ঘোষণা করা হচ্ছে।’
সদর দপ্তর থেকে জোর দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ‘শত্রুপক্ষের বিশ্বাসভঙ্গের জবাবে এটি কেবল প্রথম পদক্ষেপ।’ সতর্ক করে বলেছে, এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে শত্রুকে তার সীমার মধ্যে রাখতে পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হবে।
২০২৬ সালের ১৮ জুন প্রথম প্রহরে এক যুগপৎ ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে’ স্বাক্ষর করেন।
ইরানি কর্মকর্তারা এই দলিলটিকে একটি রাজনৈতিক রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যা মূলত ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের থামাতে এবং ব্যাপক ও চূড়ান্ত চুক্তির পথ তৈরি করতে ডিজাইন করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের নিবিড় আলোচনার পর সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করা হয়। এটি ফারসি ও ইংরেজি উভয় ভাষায় স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের নিজ নিজ মিত্রদের মধ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকার জন্য পক্ষগুলোকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করা হয়েছে। সমঝোতা স্মারকটিতে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে চলমান আলোচনা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক কার্যক্রম সচল করার একটি প্রক্রিয়া বা মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর আওতায় ওয়াশিংটন সম্মত সময়সীমা অনুযায়ী তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং লেনদেন, বিমা, পরিবহন, অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করা সম্পদে প্রবেশাধিকার এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারসহ ইরানের ওপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর সমান্তরালে, ইরানও পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সহজতর করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওমানসহ অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতের সামুদ্রিক ব্যবস্থার সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।





