হজে বাধা, কোরবানি ছাড়াই ঈদুল আজহা উদযাপন করবে গাজাবাসী

ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ গাজার একটি তাঁবু শিবিরে বসে ৬৪ বছর বয়সী নাজিয়া আবু লেহিয়া শুধু তার মৃত স্বামীর জন্যই শোক করছেন না, বরং একসঙ্গে হজ পালন করতে না পারার আক্ষেপও বয়ে বেড়াচ্ছেন। এক বছর আগে যুদ্ধ ও সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। হজে যাওয়ার জন্য তাদের নাম নির্বাচিত হয়েছিল, কিন্তু ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ভেঙে যায় সেই স্বপ্ন।
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলমানদের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ। যুদ্ধের আগে প্রতি বছর প্রায় তিন হাজার গাজাবাসী হজে যেতেন। কিন্তু যুদ্ধ ও চলাচলে কড়াকড়ির কারণে এখন গাজার মানুষ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
খান ইউনিসের তাঁবু শিবিরে বসবাসকারী আবু লেহিয়া বলছিলেন, ‘আমি ভয় পাই, হজ করার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই হয়তো আমিও মারা যাব।’ মোবাইল ফোনে মক্কার হাজিদের ভিডিও দেখতে দেখতে তিনি বললেন, ‘এই পবিত্র দিনগুলোতে সেখানে থাকার কথা ছিল আমাদেরও।’
ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুলে দেওয়া হলেও প্রতি সপ্তাহে মাত্র কয়েকশ মানুষকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগই অসুস্থ ব্যক্তি ও তাদের সহযাত্রী। ইসরায়েলি সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, মানবিক কারণ ছাড়া যাতায়াতের অনুমতি নেই।
এদিকে গাজার কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে টানা তৃতীয় বছরের মতো কোরবানির পশু ছাড়াই ২৭ মে ঈদুল আজহা পালন করবেন গাজাবাসী।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ‘পশুসম্পদ খাত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস’ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খামার, পশুশালা, পশু চিকিৎসা কেন্দ্র এবং পশুখাদ্যের গুদাম।
যুদ্ধের আগে ঈদ মৌসুমে প্রতি বছর ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার বাছুর এবং ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ভেড়া আমদানি করা হতো গাজায়।
কোগাট বলেছে, তারা মাংস, মুরগি, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানিতে সহায়তা করছে এবং গত এক মাসে প্রায় ৮ হাজার টন পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে, যদিও আনা হয়নি জীবিত পশু।
হামাস জানিয়েছে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অবাধ ত্রাণ ও পণ্য প্রবেশের আহ্বান সত্ত্বেও মে মাসে এখন পর্যন্ত গাজায় পৌঁছেছে প্রত্যাশিত সহায়তার মাত্র এক-চতুর্থাংশ।
তবে কোগাট মানবিক সংকট নিয়ে ‘ভ্রান্ত দাবি’ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে, যার বেশিরভাগই খাদ্য বহন করছে জাতিসংঘের অনুরোধ অনুযায়ী।




