এক ভিসায় ৬ দেশ
আসছে মধ্যপ্রাচ্যের 'শেনজেন'
- জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসায় সৌদি, আমিরাত, কাতারসহ ছয় দেশে সহজ হবে যাতায়াত
- লাভবান হতে পারেন বাংলাদেশি পর্যটকরাও

ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে উপসাগরীয় অঞ্চলে চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’।
একটি ভিসা, ছয়টি দেশ। মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের চিত্র বদলে দিতে আসছে নতুন এক ব্যবস্থা। ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে উপসাগরীয় অঞ্চলে চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। একটি মাত্র ভিসা হাতে থাকলেই পর্যটকেরা ঘুরে দেখতে পারবেন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্য দেশ: সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত। খালিজ টাইমস।
গত ৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত এক সম্মেলনে জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই একক পর্যটন ভিসা চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। তাঁর মতে, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই ছয় দেশে ভ্রমণ করতে হলে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিককে আলাদা আলাদা ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সেই জটিলতা কমবে। শেনজেন ভিসার মতোই একটি অনুমতিপত্র ব্যবহার করে পর্যটকেরা পুরো জিসিসি অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
জিসিসির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলোকে একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করা, পর্যটন আয় বৃদ্ধি করা এবং ছয় দেশের মধ্যে ভ্রমণ সহজ করাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় পর্যটক মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সময় আলাদা আলাদা ভিসা, কাগজপত্র ও সময়ের সমস্যার মুখোমুখি হন। নতুন ভিসা ব্যবস্থা চালু হলে একই সফরে দুবাইয়ের আধুনিক নগরজীবন, সৌদি আরবের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান, কাতারের পর্যটন আকর্ষণ কিংবা ওমানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘুরে দেখার সুযোগ আরও সহজ হতে পারে।
তবে নতুন ভিসার আবেদন পদ্ধতি, ফি, থাকার সময়সীমা এবং কোন দেশের নাগরিকরা কীভাবে আবেদন করতে পারবেন, এসব বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে নিয়ম জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু পর্যটনের জন্য নয়; এটি জিসিসি দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, ব্যবসা ও বিনোদন খাতকে ভবিষ্যতের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ করতে চাইছে উপসাগরীয় দেশগুলো।
শেনজেনের মতো একটি আঞ্চলিক ভিসা ব্যবস্থা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যও ধীরে ধীরে একটি অভিন্ন পর্যটন অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের তালিকায় থাকতে পারেন এশিয়ার পর্যটকেরাও।



