গাজায় ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

ইসরায়েলি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের জানাজায় শোকাহত পরিবারের সদস্যরা। ছবি : রয়টার্স
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৩ বছর বয়সী এক বালক নিহত হয়েছেন। শাসক দল হামাসের সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল উপত্যকাজুড়ে তার হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এক বিবৃতিতে গাজা পুলিশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার উত্তর গাজার আত-ত্বাম এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ইসরায়েলি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গাজা শহর থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুধু যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকেই নয়, তার আগেও গাজাজুড়ে পুলিশ, স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
অন্যদিকে আল-শিফা হাসপাতালের সূত্রমতে, হামলার শিকার পুলিশ ফাঁড়িটির নিকটবর্তী একটি রাস্তায় অন্তত একজন ১৩ বছরের বালক নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ফাঁড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার গাজায় তথাকথিত শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আলোচনার পথে সেখানকার দশ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনী একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোববার সকালে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শেষ ৪৮ ঘণ্টায় আটজন ফিলিস্তিনির মরদেহ ও ২৯ জন আহত ব্যক্তি গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে।
২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা ২০২৫ সালের ১০ই অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্থগিত করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে আসছে এবং একটি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে।
উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৭৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৮৮৩ জন নিহত হয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা






