সুইজারল্যান্ডে যেসব বিষয়ে সম্মত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

আলোচনায় বসার আগে কথা সূচনা বক্তব্য দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেডি ভ্যান্স। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের শান্তি আলোচনা শেষ হয়েছে। তেহরানের ‘মিনাব ১৬৮’ প্রতিনিধিদলের মিডিয়া কমিটি রবিবারে মোটাদাগে আলোচনা হওয়া ৫টি মূল বিষয়ের কথা জানিয়েছে।
ইরানের আলোচকদল জানিয়েছে, ১. শনিবার সন্ধ্যা থেকে ইরানি প্রতিনিধিদলের চাপের কারণে লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা হচ্ছে। এটিকে স্থায়ী করার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে ‘সংঘাত নিয়ন্ত্রণ ইউনিট’ নামে একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কার্যকর ও আনুষ্ঠানিকভাবে লেবাননের নিরাপত্তার দায়িত্বে প্রবেশ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমেরিকানরা লেবাননের সমীকরণ থেকে ইরানকে বাদ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এই ব্যবস্থার ফলে উত্তর ইসরায়েলে তেল আবিবের অবস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
২. হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং পর্যায়ক্রমে এটিকে খুলে দেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। এক্ষেত্রে এমন একটি ব্যবস্থাপনা সেল করা হবে, যাতে জলপথটিতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অপর পক্ষ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এই পদক্ষেপটিকে হরমুজ প্রণালির উপর ইরানের সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণকে নির্দেশ করে।
৩. আব্বাস আরাঘচির বিবৃতি অনুসারে পারমাণবিক বিষয়, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য তিনটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটিগুলো সমঝোতা স্মারকের ১৩ নং ধারা বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর তাদের কাজ শুরু করবে।
এই ধারাগুলো হলো—সকল ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে, যুদ্ধবিরতি, নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সূচনা, ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তির সূচনা এবং তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও উপজাত পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ছাড়পত্র প্রদান। প্রকৃতপক্ষে, ১৩ নং ধারা বাস্তবায়নের পূর্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্র আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করবে না।
৪. এই দফার আলোচনায় ইরান ও কাতারের মধ্যে ইরানের ওপর অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তির বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।
৫. সুইজারল্যান্ড আলোচনা চলার সময় সমঝোতা স্মারকের ১০ নং ধারার ভিত্তিতে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওফ্যাক) ৬০ দিনের জন্য তেল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং ডেরিভেটিভসের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নথি জারি করেছে। এর অর্থ হলো, ইরান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে তার গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি করতে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তার দাম নিতে পারবে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি




