আগামীর চোখ
পথচারীর হাতে লাল কার্ড!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
প্রশাসক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
মাস কয়েক আগে জনগণের ভোগান্তি কমাতে ফুটপাতে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিলেন। দৃশ্য যা দেখেছিলাম, তা টালিউড নায়ক মিঠুন চক্রবর্তীর ‘ফাটাকেষ্ট’ সিনেমার কাছাকাছি। ভাবলাম, আপনার টিম রাতারাতি সড়ক বদলে দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর। গুলিস্তানে ফ্রি স্পেস পাব, এটা প্রায় বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম। যদিও অতীতে বহু তোড়জোড় দেখেছি। দুদিন পর সব আগের জায়গাতেই ফিরে এসেছিল। তবে এবার ‘ভানুমতীর খেল’ হকার কার্ডের কাছে ধরা খেয়ে গেলাম। হকার কার্ড আমাদের কাছে হয়ে উঠল মুক্ত ফুটপাতের চাবি! পরিচিতরা বললেন, গুলিস্তানের আদি ফুটপাত ফিরল বলে। জিরো পয়েন্টে আর এনার্জি জিরো হবে না। হিরো হয়ে এসেছেন প্রশাসক।
কিন্তু ক্লাইমেক্সে যা উপহার দিলেন, তাতে পুরো সিনেমা ফেল মেরে গেল। উচ্ছেদের সুফল হিসেবে আমরা যা পেলাম, তা হলো লাইসেন্সকৃত দখলদারি। অর্থাৎ যে দখল আগে ছিল অবৈধ, তাকে সরকারি সিলছাপ্পর মেরে হকারের হাতে ‘হকার কার্ড’ দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হলো ‘সম্পূর্ণ বৈধ’। আর শৃঙ্খলা রইল কাগজে-কলমে।
হকার কার্ড আসার আগে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নীরব চাঁদাবাজির মাধ্যমে রাস্তা দখল করে দোকান বসানো হতো। যেহেতু বিষয়টি ছিল অবৈধ, ফলে ‘দাতা ও গ্রহীতার’ ভেতর একটু ভয়ডর ছিল। হকার কার্ড আসার পর মোটামুটি একটা স্থায়ী বন্দোবস্তের আবহ তৈরি হয়েছে। এখন কারও ভেতরই ভয়ডর নেই। শুনেছি, হকাররা কার্ডের পরও চাঁদা দিচ্ছেন। দুদিকেই তুষ্ট করতে হচ্ছে। রাস্তায় যে একচিলতে বাস চলার জায়গা রেখেছে, তার জন্য হকারদের ধন্যবাদ দেওয়া যেতে পারে।
নগর বিশেষজ্ঞরা ঠিকই বলছেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এই ধরনের তড়িঘড়ি উচ্ছেদ, কার্ড বিতরণ আর কাগুজে নীতিমালা দিয়ে সমাধান তো দূরের কথা, জটিলতা দশ গুণ বাড়ানো হয়েছে। এখন একজনকে বৈধভাবে বসতে দিলে পেছনে আরও ১০ জন এসে দাঁড়ায়।
হকার্স ইউনিয়ন বলছে, রাজধানীতে প্রায় ৫ লাখ হকার রয়েছে। এটা সত্য যে, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকার উচ্ছেদ অন্যায়। যদি পুনর্বাসন করতে না পারেন, তাহলে এই হকাররা কোথায় যাবে ভেবেছেন? আর যদি সবার হাতেই হকার কার্ড এসে যায়, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই। হকারের হাতে হকার কার্ড তো এসে গেল, পথচারীদের স্বপ্ন দেখিয়ে হাতে লাল কার্ড ধরিয়ে দিলেন। ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কই ভরসা। ফুটবলের স্ট্রাইকারের মতো ড্রিবল করার ভঙ্গিতে রাস্তায় চলতে হবে আর কি।
ইতি
এক পথচারী




