Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ থেকে যুদ্ধক্ষেত্র

কেন মার্কিন ‘পরাজয়ের’ কথা বলছেন ইরানি বিশ্লেষক

  • হরমুজে ইরানের চাপ ও মার্কিন মিত্রদের দূরত্বকে ‘ব্যর্থতার প্রমাণ’ বলছেন ইরানি বিশ্লেষক
  • ছয় মাসের সংঘাতেও তেহরানের সরকার অটুট
  • তবে সামরিকভাবে ইরানেরও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
agamir somoy
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৩
কেন মার্কিন ‘পরাজয়ের’ কথা বলছেন ইরানি বিশ্লেষক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

আকাশে বোমারু বিমান, সমুদ্রে রণতরী, ছয় মাস ধরে হাজার হাজার হামলা–সামরিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্লা যে ভারী, তা নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু যুদ্ধের শেষে প্রশ্নটা শুধু কে কত বোমা ফেলল, তা নয়; প্রশ্ন হলো, যে লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার কতটা অর্জিত হলো। আর সেই হিসাবেই যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরান যুদ্ধে ‘কৌশলগত পরাজয়’ বরণ করেছে বলে দাবি করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইরানের পারমাণবিক আলোচক দলের সাবেক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মারান্দি। আল মায়াদিনকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে রাজনৈতিক ফলাফলে পরিণত করতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন।

মারান্দির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম দিকে ধারণা করেছিল, প্রবল বিমান হামলা, শীর্ষ নেতাদের হত্যা এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু ছয় মাসের সংঘাতের পরও ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকে আছে, সামরিক প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান এখনও হরমুজ প্রণালিকে বড় কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, এখানেই সামরিক সাফল্য ও কৌশলগত বিজয়ের মধ্যে পার্থক্য।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে এমন প্রশ্ন শুধু তেহরান থেকেই উঠছে না। সাম্প্রতিক পশ্চিমা বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, বিপুল সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরও ইরানে স্থায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারেনি ওয়াশিংটন। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের সাবেক পরিচালক রবিন নিবলেট পরিস্থিতিকে ‘কৌশলগত ক্ষতি ও বিব্রতকর’ ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান অভিযান ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বড় আঘাত করলেও তেহরানের সরকার টিকে গেছে এবং যুদ্ধের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো এখনও অধরা।

মারান্দি বিশেষভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং গোয়েন্দা সক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, ইরানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নির্ভুলতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনার অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে তেহরানের বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য ওয়াশিংটনকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেছেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিই নয়, যেসব আঞ্চলিক দেশের ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করছে, সেগুলো সম্পর্কেও ইরানের কাছে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এটি মারান্দির দাবি; যুক্তরাষ্ট্র তার এই মূল্যায়ন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

তাঁর যুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যেত। সংঘাতের পর ইরান সেখানে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগে। ওয়াশিংটন হরমুজ পুরোপুরি খুলতে চাইলেও সোমবার (১৭ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের জুনের সমঝোতার ৬০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে যায় কোনও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছাড়াই। প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করা, মার্কিন নৌ অবরোধ এবং নিষেধাজ্ঞা–মূল বিরোধগুলো এখনও অমীমাংসিত।

মারান্দি এটিকেই যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যার বড় জায়গা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ইরানের জন্য বর্তমান সংঘাত ‘অস্তিত্বের যুদ্ধ’, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ‘পছন্দ করে নেওয়া যুদ্ধ’। তাই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির লড়াইয়ে দুই দেশের জনগণের সহ্যক্ষমতা ও রাজনৈতিক চাপ এক নয়। তিনি আগেও বলেছিলেন, তেহরানের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রচলিত অর্থে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত করা নয়; বরং এমন মূল্য দিতে বাধ্য করা, যাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন আবার ইরানের বিরুদ্ধে একই ধরনের যুদ্ধ শুরু করার আগে বহুবার ভাবে।

তবে ‘যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত’ এই বক্তব্যকে নিছক প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। যুদ্ধ ইরানকেও ভয়াবহ মূল্য দিতে বাধ্য করেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সামরিক, পারমাণবিক, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ ও সরবরাহব্যবস্থার সংকটে অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, খাদ্যদাম, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের চাপও তীব্র। ইরানের নেতৃত্ব নিজেই নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ থেকে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ার আশঙ্কা করছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের খরচও কম নয়। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনায় কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনেও বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। দীর্ঘ মোতায়েনে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর চাপ বেড়েছে; আব্রাহাম লিংকনের মতো বিমানবাহী রণতরীকে রেকর্ড সময় সমুদ্রে থাকতে হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

মিত্রদের অবস্থানও মারান্দির ‘কৌশলগত পরাজয়’ তত্ত্বের একটি অংশ। যুদ্ধ শুরুর পর অনেক ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্র সরাসরি মার্কিন অভিযানে যোগ দিতে অনীহা দেখিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভরতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে ওঠাকে মধ্যপ্রাচ্যে বদলে যাওয়া হিসাবের একটি লক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানকে কোনও অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে যে ক্ষতি করা হয়েছে, তা নিজেই বড় অর্জন। ফলে যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের হিসাব সম্পূর্ণ বিপরীত।

কিন্তু মারান্দির বক্তব্যে আরেকটি দিকও উঠে এসেছে, তা হচ্ছে তথ্যযুদ্ধ। তার দাবি, সংঘাতের শুরুতে ইরানের দ্রুত ভেঙে পড়া এবং সামরিক প্রতিরোধ অকার্যকর হয়ে যাওয়ার যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং ইরানের গোয়েন্দা সক্ষমতা ও দূরপাল্লার আঘাতের ক্ষমতা পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাকারীদের ধারণার চেয়ে শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে। একই সময়ে অবশ্য পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাও নজিরবিহীন ক্ষতি করেছে। তাই উভয় পক্ষই যুদ্ধের ফল নিজেদের কৌশলগত ভাষায় ব্যাখ্যা করছে।

ছয় মাসের মাথায় যুদ্ধ তাই এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ‘জয়’ বা ‘পরাজয়’ শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দিয়ে মাপা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ভয়াবহ সামরিক ক্ষতি চাপিয়েছে, কিন্তু তেহরানকে আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি। আবার ইরানও বিপুল মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, কিন্তু হরমুজ ও আঞ্চলিক সামরিক চাপের মাধ্যমে দরকষাকষির ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ৬০ দিনের সমঝোতার সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও শান্তিচুক্তি হয়নি বরং দুই পক্ষই আবার শক্ত অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।

যুদ্ধের মানচিত্রে তাই এক অদ্ভুত ছবি, বোমায় ক্ষতবিক্ষত ইরান এখনও দাঁড়িয়ে, আর সামরিকভাবে অনেক শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রও এখনও সেই রাজনৈতিক সমাপ্তি খুঁজে পায়নি, যার জন্য যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। মারান্দির চোখে এটিই ওয়াশিংটনের কৌশলগত পরাজয়। শেষ পর্যন্ত ইতিহাস সেই রায় দেবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত; তবে ছয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে৷ ইরানকে দ্রুত নত করার যে হিসাব ছিল, যুদ্ধ তার চেয়ে অনেক দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং জটিল হয়ে উঠেছে।

মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রইরান
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise