যুদ্ধকৌশল বদলাচ্ছে ইরান, আক্রান্ত হলে আগ্রাসনের হুঁশিয়ারি

আইআরজিসির একদল সৈন্য। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
কোনো দেশ ইরানে হামলা চালালে শুধু প্রতিরোধ নয়, সেই দেশের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক কৌশল ‘আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী যুদ্ধের’ দিকে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি।
বুধবার মোহেবি বলেছেন, ইরানের লক্ষ্য এখন ‘স্থায়ী ও পূর্ণ প্রতিরোধক্ষমতা’ তৈরি করা। কোনো হামলা হলে শুধু নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে না দেশটি। হামলাকারীর বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে তার বক্তব্যে অন্য কোনো দেশ দখল করতে স্থলবাহিনী পাঠানোর স্পষ্ট ঘোষণা নেই। মূলত হামলাকারী দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আইআরজিসির নতুন কৌশলে ‘আগ্রাসী যুদ্ধের’ ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অর্থ, সামরিক শক্তিতে বড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে একই কৌশলে লড়াই না করে তার দুর্বল জায়গায় আঘাত করা। ইরানের ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন, দ্রুতগতির ছোট নৌযান, সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো কৌশল এতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এর আগেও মোহেবি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা করলে ইরান ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে দেবে। তার দাবি ছিল, নতুন সংঘাতে এমন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা হতে পারে, যেগুলো আগের সংঘাতে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা করলে মার্কিন ও আঞ্চলিক মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইন্টারনেট-সংযুক্ত ব্যবস্থাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে এর আগে সতর্ক করেছিলেন মোহেবি।
এর মধ্যেই নতুন একটি শক্তিশালী অস্ত্র প্রকাশের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। মোহেবি এটিকে ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অস্ত্রটির ধরন ও সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাইও করা যায়নি।
আইআরজিসির দাবি, আগের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বেড়েছে। এগুলোর পাল্লা, নির্ভুলতা ও ধ্বংসক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই ইরান এসব হুঁশিয়ারি দিল। ফলে নতুন কৌশলের মূল বার্তা হলো— ইরানে আবার হামলা হলে সংঘাত শুধু দেশটির সীমান্তের মধ্যে আটকে থাকবে না।
সূত্র : আল জাজিরা





