চার দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

২০২৬ সালের ৩ জুন কুয়েত এয়ারপোর্টে ইরানের হামলায় একজন নিহত হয়। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
রাতভর রক্তক্ষয়ী মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী এবং দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে ‘মার্কিন স্থাপনাগুলোতে’ ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ফার্স সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত এ বিবৃতিতে সেনাবাহিনী বলেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে ড্রোন দিয়ে জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, একটি স্থায়ী রাডার সাইট এবং জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, এই হামলাটি তাদের ‘সায়েগেহ’ অভিযানের নবম পর্যায় এবং ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এটি চালানো হয়েছে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রো জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী ইরানের ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বা কোনো বস্তুগত ক্ষতি হয়নি।
সশস্ত্র বাহিনী আরও জানিয়েছে, রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের দলগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
কাছাকাছি সময়ে বাহরাইন ও কুয়েতেও হামলা চালানোর কথা বলেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘অপারেশন লাইটনিং’ নামে পরিচিত তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার দশম পর্বের অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টা আগে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন রাডার এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর রাডার ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি ট্যাংকসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, পৃথক আরেক হামলায় বাহরাইনের শেখ ইসা ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত সুপার হক রাডার ও প্যাট্রিয়ট স্থাপনাসহ যোগাযোগ ও রাডার ব্যবস্থাকে ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
এর আগে, আইআরজিসিও কুয়েতে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
বাহিনীটির ভাষ্য, তারা আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে একটি সি-র্যাম আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং মার্কিন সৈন্যদের একটি সমাবেশস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
এদিকে, ইরাকের কুর্দিঅধ্যুষিত এরবিলে ৫টি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এরবিল পুলিশ জানিয়েছে, মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। যার ফলে আগুন লেগে যায় এবং মিশনটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শহরতলীর উপকণ্ঠে একটি মার্কিন ঘাঁটির কাছে আরও দুটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল শহরে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আল-জাইদি বলেছেন, ইরাক এই হামলার কঠোর নিন্দা জানায় এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার কোনো প্রচেষ্টা বরদাস্ত করবে না।
এর আগে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া তিন শতাধিক হয়েছেন আহত।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার রাতজুড়ে সর্বশেষ মার্কিন হামলার পর এ তথ্য জানিয়েছে।




