মার্কিন চাপ থোড়াই কেয়ার
হরমুজে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের টার্গেট ইরানের

হরমুজে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের টার্গেট ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা, নৌচলাচল সহায়তা এবং পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক সেবার জন্য ফি আরোপ করে বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার আয়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটি বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ব্যবস্থাপনা আগের কাঠামোয় আর ফিরবে না।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন ফি-ভিত্তিক একটি কাঠামো প্রস্তাব করেছে ইরান। এই পরিকল্পনায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিরাপত্তা, উদ্ধার কার্যক্রম, নৌচলাচল সহায়তা এবং পরিবেশগত সেবার বিপরীতে আদায়কৃত অর্থ ভাগাভাগি করবে। এ থেকে বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে বলে তেহরানের ধারণা।
প্রতিবেদন বলছে, নতুন এই পরিকল্পার পক্ষে সমর্থন আদায়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও আলোচনা করছে ইরান। এর আগে দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ওমান সফরে মন্তব্য করেন, ‘হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আর যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।’
ইরানের প্রস্তাবটি তুরস্কের দারদানেলেস প্রণালির ব্যবস্থাপনা থেকে অনুপ্রাণিত। সেখানে নৌচলাচল সহায়তা, পরিচ্ছন্নতা ও উদ্ধারসেবার জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে জাহাজগুলো। তেহরানের ধারণা, আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে হরমুজ প্রণালিতেও একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব।
তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহার করার জন্য কোনো দেশ জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অধিকার রাখে না। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের শর্ত কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ এবং টোল বা ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচল নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে ইরানের ওপর। তবে একই সঙ্গে প্রণালিটির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনায়ও যুক্ত করা হয়েছে তেহরানকে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাত শেষে জাহাজ চলাচল আবার বাড়তে শুরু করলেও এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে অনেক শিপিং কোম্পানি।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের ফি বা টোল ব্যবস্থা চালু করতে হলে প্রয়োজন হবে আন্তর্জাতিক সমর্থনের। একতরফাভাবে এমন ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারবে না ইরান।






