‘সরকার উৎখাতের চেষ্টা’, ইরানে ৬ হাজার বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার

ছবি: রয়টার্স
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও অস্থিরতার ঘটনায় ধরপাকড় এখনও চলছে। জানুয়ারির ওই আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের চেষ্টা এবং অস্থিরতার সময় ইরানের ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশগুলোকে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পুলিশপ্রধান।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বক্তব্যে পুলিশপ্রধান আহমাদরেজা বললেন, ‘যারা অনুতপ্ত হয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করবেন, শুধু তাদের ছাড়া আমরা কাউকেই মুক্তি দেব না।’
২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতন এবং অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিক্ষোভের কিছু অংশ সহিংস হয়ে ওঠে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালানো হয়।
অস্থিরতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। তবে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট আরেক পদক্ষেপে ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির বিরুদ্ধে কাজ করা বা শত্রুভাবাপন্ন সরকারগুলোকে সমর্থনের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের ২৪০টি সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির মধ্যে বিদেশে বসবাসকারীরাও রয়েছেন। এ ছাড়া ১৮২টি ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো এবং ইসরায়েল ও তেহরানের বিবেচনায় শত্রুভাবাপন্ন অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জানুয়ারির অস্থিরতায় বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর




