ইরান
পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আঞ্চলিক দেশগুলোকেই

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নিরাপত্তার প্রশ্নে বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ইরানের সঙ্গে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এ কথা বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি।
সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন চার দেশের কর্মকর্তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রেজায়িকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইরানি জনগণের প্রতিরোধ এবং সশস্ত্র বাহিনীর শক্তির কারণে এ অঞ্চলে নতুন ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
রেজায়ি বলেন, ‘ইরানি জনগণের প্রতিরোধের ফল প্রতিদিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’ তার ভাষ্য, চার দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মনে করেন, একসঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়েই এ অঞ্চলের সমস্যার সমাধান সম্ভব। পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে হবে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে আবারও সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়া ঠেকাতে আলোচনার পথ খোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরানে সোমবার চার দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান যুদ্ধের অবসানে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের পক্ষগুলোর মধ্যে ইতিবাচক ও কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকেও সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের এই বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লড়াই হিসেবে দেখছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক খান। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর জোট ভবিষ্যতে কার্যকর আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে।’ তবে সেই কাঠামোয় ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তার ওপর এর সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করবে।
তারিক খান আরও বলেন, ভবিষ্যতের আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় ইসরায়েলের অবস্থান কী হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এ অঞ্চলের দেশগুলো ইসরায়েলের নীতিকে কতটা মেনে নিতে প্রস্তুত, সেই প্রশ্নও রয়েছে। তার মতে, এখন প্রশ্ন শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা নয়। যুদ্ধের আগে যে আঞ্চলিক ব্যবস্থা ছিল, তার জায়গায় কী ধরনের ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, তেহরানের বৈঠকে চার দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। বৈঠকে মূলত আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।




