ইরানে রাতভর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩৫

ছবি: রয়টার্স
ইরানের দক্ষিণ উপকূলসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া তিন শতাধিক হয়েছেন আহত।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার রাতজুড়ে সর্বশেষ মার্কিন হামলার পর এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার স্থানীয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী বৃহত্তম দ্বীপ কেশম এবং বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী সিরিকেও একই ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যেখান থেকে হরমুজ প্রণালি দেখা যায়।
এছাড়াও ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান প্রদেশের চাবাহার, কোনারাকসহ বিভিন্ন স্থানে এবং রাস্ক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশুদের একটি ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকট বিস্ফোরণ ও তীব্র কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা বেরিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর।
তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালটি খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাতভর হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর সর্বশেষ দফার অভিযান শেষ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জন্য দায়িত্বশীল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের ক্ষেত্রে তেহরানের হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কমানোর জন্য তাদের বাহিনী ইরানের কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিকমাধ্যম এক্সে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা বন্দর আব্বাসসহ একাধিক স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
এতে আরও জানানো হয়, মার্কিন বাহিনী বুধবার গভীর রাতে ৯০ মিনিটের এক অভিযানে গ্রেটার টুনব দ্বীপের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
রক্তক্ষয়ী মার্কিন হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইরাক, কুয়েত ও জর্ডানের মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র : আলজাজিরা




