সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক ব্যুরোর নেতা বদরান
অস্ত্র সমর্পণ করবে না হামাস

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান। ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির আওতায় গাজা শাসনের জন্য ফিলিস্তিনি কমিটি দায়িত্ব নিলে পুলিশ ছাড়া উপত্যকায় কোনো অস্ত্র দৃশ্যমান থাকবে না বলে জানিয়েছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান। তবে স্পষ্ট করে তিনি বলেছেন, এর অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ নয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন হামাসের দায়িত্বশীল এ নেতা। এসময় তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়া আলোচনার বিষয়ে দলটির প্রস্তাবিত সমাধানগুলো সম্পর্কে ভেতরের চিত্র তুলে ধরেন এবং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির ধারণাটি সম্পর্কে আলোচনা করেন।
হামাস নেতা বদরান বলেছেন, যখন এই ফিলিস্তিনি কমিটি গাজা শাসনের জন্য সম্মিলিত জাতীয় কমিটি ( এনসিএজি ) গাজা উপত্যকার দায়িত্ব নিতে আসবে, তখন এই কমিটির, অর্থাৎ ফিলিস্তিনি পুলিশের সরকারি অস্ত্র ছাড়া গাজার রাস্তা ও গলিতে কোনো দৃশ্যমান অস্ত্র থাকবে না।
তার ভাষ্য, গাজা উপত্যকায় আমরা যে ধরনের সশস্ত্র বিক্ষোভে অভ্যস্ত ছিলাম, সেরকম কিছু আর হবে না। তবে এটা স্পষ্ট যে এর অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ নয়।
বদরান জোর দিয়ে বলেছেন, আমরা সেগুলো (অস্ত্র) হস্তান্তর করার কথা বলছি না; আমরা অন্ততপক্ষে ফিলিস্তিনি পুলিশের সরকারি অস্ত্র ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র দৃশ্যমান না থাকার বিষয়ে কথা বলছি। এই বিষয়ের বিস্তারিত একটি জাতীয় কাঠামোর মধ্যে আলোচনা করা হবে।
হামাসের এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছে, দলটি নতুন করে আলোচনার জন্য কায়রোতে তাদের প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র জানায়, আলোচনাটি এই সপ্তাহের শেষে শুরু হতে চলেছে। আরও অনুকূল আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য হামাস চলমান ইসরায়েলি গুপ্তহত্যা—যেমন সম্প্রতি সামরিক কমান্ডার ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ এবং মোহাম্মদ ওদেহ- এর হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবিতে আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণ সাময়িকভাবে দেরি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারই সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করেন উপত্যকার শাসক দলটির এ শীর্ষ নেতা।
তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন কায়রো বৈঠকে গাজার আটটি প্রধান ফিলিস্তিনি দল একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় অবস্থান গঠনের জন্য একত্রিত হবে। হামাস, প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে), পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি), ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন (ডিএফএলপি), পিএফএলপি-জিসি, ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ, পপুলার রেজিস্ট্যান্স কমিটিজ (পিআরসি) এবং ফাতাহ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ডেমোক্রেটিক রিফর্ম কারেন্টের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিটি রক্ষা করা।
তবে বদরান উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েল তার প্রথম পর্যায়ের অঙ্গীকারের ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার পথকে অসম্ভব করে তুলেছে।
তার অভিযোগ, আমরা গাজায় মানবিক সহায়তা, রাফাহ ক্রসিং ব্যবস্থা, অবকাঠামো এবং গুপ্তহত্যা নিয়ে কথা বলছি। উদ্দেশ্য ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, কিন্তু এরপরেও প্রায় হাজার মানুষ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল এর ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করেছে, একথা বলাটাও অতিরঞ্জন।
বদরানের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ৬০০টির পরিবর্তে প্রতিদিন মাত্র ১৫০ থেকে ২৫০টি সাহায্যবাহী ট্রাক গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করছে, অথচ বিদ্যুৎ, হাসপাতাল ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র : আলজাজিরা




