সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় আহত ৭৩, জ্বালানি স্থাপনায় আগুন

সৌদি আরবের জেদ্দায় হামলার পর সৌদি আরামকোর একটি পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণাগার থেকে ধোঁয়া উঠছে, ২৬ মার্চ ২০২২। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবে ৭৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জ্বালানি খাতের কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং সাময়িকভাবে কিছু কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
তিনি একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায়। জরুরি দলগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করছে। কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অবশ্য বলেছেন, সৌদি আরবের আবহা, নাজরান ও জিজানে সৌদি আরামকোর স্থাপনা এবং খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
তার দাবি, এসব হামলায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘সুনির্দিষ্ট ও সরাসরি’ ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে ১২১টি বিমান হামলা চালানোর অভিযোগও করেছেন সারি। তার দাবি, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। সৌদি আরব এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে হুতিরা ইয়েমেনের আল-জাওফ প্রদেশের আল-হাজমে একটি কারাগারে সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ তুলেছিল। তাদের দাবি, ওই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। সৌদি আরব এ অভিযোগও স্বীকার করেনি।
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখলের পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। পরের বছর হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা কমে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার তা তীব্র হয়েছে।
হামলার নিন্দা জানিয়েছে কুয়েত ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)। কুয়েত একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জিসিসি বলেছে, বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনায় হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক হামলা ও ইয়েমেনের ভেতরে নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারেও পড়ছে।
সূত্র : আল জাজিরা






