হরমুজে বাইপাস সড়কের তোড়জোড়
- ইরানের দাপট কমাতে এক রেলপথে জিসিসি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হরমুজ প্রণালি ঘেঁষে বাইপাস সড়ক (রেলপথ) নির্মাণে তোড়জোড় শুরু করেছে জিসিসিভুক্ত দেশগুলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর প্রণালিটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে তেহরান। এতে হরমুজ দিয়ে তেল-গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করতে না পারায় তেল রপ্তানিতে ধসসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়ে জোট সদস্য কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমান। তাই প্রণালিটির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রীরা গত বুধবার একটি অনলাইন বৈঠকে মিলিত হন। এতে প্রকল্পটির অগ্রগতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। তারা বলছে, গালফ রেলওয়ে শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়; এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক সংযোগের নতুন যুগের সূচনা করবে।
জিসিসি রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্পন্ন হলে কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমান একক রেলপথে যুক্ত হবে। প্রায় ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নেটওয়ার্ক কুয়েত সিটি থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও আমিরাত হয়ে ওমানের রাজধানী মাসকাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
জিসিসি পরিবহনমন্ত্রীদের বৈঠকে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, রেলপথ চালু হলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রকল্পটির ৫০ শতাংশ কাজ এর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো নেটওয়ার্ক চালু করা।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে কুয়েত। শাদাদিয়া থেকে সৌদি সীমান্তবর্তী নুয়াইসিব পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার রেলপথের নকশা প্রণয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে দেশটি। এ ছাড়া কুয়েত পৌর কাউন্সিল সৌদি আরবের সঙ্গে রেল সংযোগের রুট ও করিডর অনুমোদন করেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবও কুয়েত-সৌদি রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়েত সীমান্ত থেকে আমিরাত সীমান্ত পর্যন্ত সৌদি অংশের রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০-৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুয়েত সিটি থেকে সৌদির রাজধানী রিয়াদ পর্যন্ত যাত্রা ২ ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত ও কম খরচে পরিবহন করা যাবে পণ্য।
সৌদির নতুন রেল করিডর: সৌদি আরব রেলওয়েজ পণ্য পরিবহনের জন্য একটি নতুন রেল করিডর চালু করেছে। এটি ইরান যুদ্ধের ফলে সামুদ্রিক পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্নের মধ্যে হরমুজ প্রণালির একটি বিকল্প হিসেবে নকশা করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের এ গুরুত্বপূর্ণ পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট জটিলতা এবং সরবরাহ ও লজিস্টিক শৃঙ্খলের ওপর বাড়তি চাপের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।




