লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ঠেকাতে ‘প্রতিরোধ বলয়’ গড়ছে ইরান

ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান। ছবি : রয়টার্স
ইসরায়েলে চালানো ইরানের হামলাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো লেবাননের ওপর ইসরায়েলের নতুন কোনো বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন ঠেকানো বা একটি ‘প্রতিরোধ বলয়’ তৈরি করা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট সহ-প্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসি।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি বলেছেন, ‘ইরান ইতিমধ্যে নিজের ওপর হওয়া যেকোনো সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুনপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।’
‘তারা এখন মূলত যা করার চেষ্টা করছে তা হলো, লেবাননের ওপর যেকোনো ধরনের ইসরায়েলি হামলা প্রতিহত করার জন্য একটি নতুন প্রতিরোধ বলয় তৈরি করা’, যোগ করেন ত্রিতা পারসি।
লেবাননের মতো অন্যান্য মিত্রদের ব্যাপারেও দেশটি একই অবস্থান নেবে কিনা, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত নন এই ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
ত্রিতা পারসি বলছেন, ইরান ভবিষ্যতে গাজা বা ফিলিস্তিনের অন্যান্য অংশের জন্য একই কৌশল নেবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে বর্তমানে তারা অন্তত লেবাননের নিরাপত্তা রক্ষায় এই প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করছে।
‘ইসরায়েল বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর জবাবে ঠিক কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ইরানের এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক ‘জুয়া’ শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না’, মত প্রকাশ করেন পারসি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সাম্প্রতিক হামলার আরেকটি বড় লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে লেবানন ইস্যুটিকে অন্তর্ভুক্ত করা।
সর্বশেষ হামলার মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি হতে হবে অঞ্চলভিত্তিক। একই সঙ্গে তাতে অবশ্যই লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ত্রিতা পারসি জানান, শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই রেড লাইনকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। তবে গত কয়েক দিনের ঘটনাবলীতে এটি পরিষ্কার, তেহরান এই বিষয়ে অত্যন্ত অনড়।
সূত্র : আলজাজিরা





