গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে ফ্রিডম ফ্লোটিলার নতুন বহর

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের জাহাজ হান্দালার কর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে আবারও সমুদ্রপথে রওনা হয়েছে আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী বহর ফ্রিডম ফ্লোটিলা। আগামী অক্টোবরে গাজা উপকূলে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে এই নতুন মিশন শুরু করেছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি)।
সংগঠনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর শারীরিক নির্যাতন, বারবার টিজার গান ব্যবহার এবং যৌন নিপীড়নের মতো সহিংসতার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও অব্যাহত থাকবে এ অভিযান।
এফএফসি বলছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্বের নজর সরে গেছে গাজা থেকে। তাই এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উদ্যোগ নেওয়া বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, বহরের দুটি জাহাজ এরই মধ্যে যাত্রা শুরু করেছে। হানদালা-২ নামের একটি জাহাজ গত জুন ও জুলাই মাসে স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলে সফর করে নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কে নোঙর করেছে।
আর কেট নামের অন্য জাহাজটি চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল থেকে ছেড়ে আয়ারল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্স ঘুরে এসেছে। গাজার উদ্দেশে চূড়ান্ত যাত্রার আগে স্প্যানিশ, পর্তুগিজ ও ইতালীয় বন্দরে যাত্রাবিরতির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এফএফসির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য জোহর চেম্বারলেইন রেগেভ জানান, নিজেদের দেশের সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ফ্লোটিলা আবারও সাগরে নেমেছে। মিশন শুরু করেছে।
এই মিশনে মানবাধিকারকর্মী, শান্তিকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও ফিলিস্তিন অধিকার রক্ষাকারীরা যোগ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সরকারগুলোর কাছে ফ্লোটিলার জন্য নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা চেয়ে করা হয়েছে আবেদন। পাশাপাশি গাজায় খাদ্য, পানি ও ওষুধ প্রবেশে ইসরায়েলি বাধা বন্ধ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে চাপ বাড়ানোর।
একই সঙ্গে কোনো জাহাজে হামলা হলে আহ্বান জানানো হয়েছে কূটনৈতিক পদক্ষেপের।
মিশনে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রকৌশলী এডওয়ার্ড ডিজিলিও জানান, গাজার দিকে যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তা তারা জানেন। তবে গাজাবাসী ও বিশ্বের জন্য নীরবতার মাশুল অনেক বেশি বড়।
ফ্রিডম ফ্লোটিলার এই ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু হয় ২০১০ সালে। সে সময় মাভি মারমারা জাহাজে ইসরায়েলি হামলায় ১০ জন সমাজকর্মী প্রাণ হারান। এর আগে ২০০৮ সালে প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ শুরু করেছিল ফ্রি গাজা মুভমেন্ট।
বিগত এক বছরের মধ্যে দুবার ফ্লোটিলার বহর আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার লেখক জুকিসওয়া ওয়ানার ও নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্দলা ম্যান্ডেলাসহ সাড়ে ৪ শতাধিক এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে ১৭৫ জনের বেশি যাত্রীকে আটক করে।
‘দখলকৃত জাহাজগুলোর মানবাধিকারকর্মীদের পানি ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। ঘুমোতে না দেওয়ার মতো নির্যাতন চালিয়েছে ইসরায়েল’, নিশ্চিত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এদিকে, বর্তমানে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় মানবিক পরিস্থিতি চরম সংকটে রয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ৮২ শতাংশের বেশি পরিবার চরম পানি সংকটে আছে। ৯০ শতাংশ পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার হাসপাতাল ও ত্রাণ কেন্দ্রে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
সূত্র : আলজাজিরা







