মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর ফের কিয়েভে রাশিয়ার হামলা

ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশ দুটির মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু করতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের পরদিনই এই হামলা চালায় মস্কো। খবর সিএনএনের।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে চালানো এই হামলার অন্তত ২ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এই হামলায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার এই হামলায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো।
এর আগে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সঙ্গে বৈঠক করেন। তার একদিন আগে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।
এটিই ইউক্রেনের রাজধানীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের প্রথম সফর। বৈঠক ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের রাজধানীতে ৭২ ঘণ্টা হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল দেশ দুটি। সাময়িক এই যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হতেই ফের হামলা চালাল রাশিয়া।
যদিও বৈঠকের পর উইটকফ এক এক্স পোস্টে জানান, ‘ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণসহ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’ একই ধরনের বার্তা এসেছিল রাশিয়ার পক্ষ থেকেও।
পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ শনিবারের আলোচনাকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেন। তার ভাষ্য, ‘আলোচনা শুধু ইউক্রেন সংকট সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অর্থনৈতিক বিষয় এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বড় রুশ-আমেরিকান প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
তবে শঙ্কা ছিল ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে। রবিবার বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই আশা করছি যে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের সঙ্গে আমরা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব। যুদ্ধ যদি শীতকালেও চলতে থাকে, তাহলে আমরা আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করছি। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’
সূত্র: সিএনএন।





