হ্যারি-মেগান ব্রিটেনে ফিরতেই খোঁচা ট্রাম্পের

ছবি: রয়টার্স
ছয় বছর আগে যে দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন অভিমান, নিরাপত্তা-সংকট আর রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব নিয়ে, সেই ব্রিটেনেই ফিরেছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। আর তাদের আমেরিকা ছাড়ার খবর শুনে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোজাসাপ্টা বললেন, ‘আমি খুশি। আমি তাদের ভক্ত ছিলাম না।’
ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে বুধবার ভ্রমণশিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, হ্যারি-মেগানের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ব্রিটেনে ফিরে আসার প্রসঙ্গ উঠতেই তাদের নিয়ে পুরনো ক্ষোভ উগরে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো’ সম্পর্ক ছিল এবং রাজা তৃতীয় চার্লসকেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। তার অভিযোগ, হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের সঙ্গে ‘চরম অসম্মানজনক’ আচরণ করেছেন। বিশেষ করে মেগানকে নিশানা করে ট্রাম্প বলেছেন, রানি এবং রাজা চার্লসের প্রতি তার আচরণ তিনি পছন্দ করেননি। এমনকি তিনি নিজে রাজপরিবারের সদস্য হলে হ্যারি-মেগানকে আবার ফিরিয়ে নিতেন না বলেও মন্তব্য করেন।
হ্যারি ও মেগান ২০২০ সালে জ্যেষ্ঠ রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে প্রথমে কানাডা এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। দীর্ঘ ছয় বছরের সেই মার্কিন অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে গত ২৬ আগস্ট দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে ব্রিটেনে ফেরেন তারা। বর্তমানে পরিবারটি ব্রিটেনেই রয়েছে এবং লন্ডনের বাইরে দীর্ঘ সময় থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। আর্চি ও লিলিবেটের ব্রিটিশ স্কুলে পড়াশোনা শুরু করারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে দেশে ফিরলেও হ্যারি-মেগান রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের দায়িত্বে ফিরছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ছয় বছরে রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের টানাপোড়েন বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া আলোচিত সাক্ষাৎকারে মেগান রাজপরিবারে থাকার সময় মানসিক সংকটের কথা বলেছিলেন। তাদের অনাগত সন্তানের গায়ের রং নিয়ে রাজপরিবারের একজন সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন হ্যারি-মেগান। পরে হ্যারি তার স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’-এ পারিবারিক দ্বন্দ্বের আরও অনেক ঘটনা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে মেগানের বিরোধও নতুন নয়। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মেগান ট্রাম্পকে ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ ও ‘নারীবিদ্বেষী’ বলেছিলেন। ২০২০ সালে হ্যারি-মেগান ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তাদের নিরাপত্তার ব্যয় মার্কিন করদাতাদের অর্থে বহন করা হবে না। সে সময়ও তিনি বলেছিলেন, মেগানের ‘ভক্ত নন’।
সময় অবশ্য হ্যারিকেও নিজের পুরনো অবস্থান বদলাতে বাধ্য করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ব্রিটেনে নিরাপত্তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে হেরে তিনি বলেছিলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের আবার ব্রিটেনে নিয়ে আসার পরিস্থিতি তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। অথচ এক বছরের কিছু বেশি সময় পর সেই আর্চি-লিলিবেটকে নিয়েই এখন ব্রিটেনে নতুন জীবন শুরু করেছেন হ্যারি ও মেগান।






