পাকিস্তানে নিহত পুলওয়ামা হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’

হামজা বুরহান
ভারত অধ্যুষিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলায় অভিযুক্ত অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের মুজাফফরাবাদে অজ্ঞাত হামলাকারীরা তাকে একাধিকবার গুলি করে। হামলার পর ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
২০২২ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার হামজা বুরহানকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। সে সময় সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ‘আরজুমান্দ গুলজার দার ওরফে হামজা বুরহান ওরফে ডক্টর, বয়স ২৩ বছর, পুলওয়ামার রাতনিপোরার খারবাতপোরার বাসিন্দা এবং ইউএপিএর অধীনে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী আল-বদরের সহযোগী সদস্যদের একজন।’
কে এই হামজা
পুলওয়ামার রাতনিপোরা এলাকার খারবাতপোরায় জন্ম নেওয়া হামজা ২০১৭ সালে উচ্চশিক্ষার অজুহাতে পাকিস্তানে যান। পরে সে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী আল-বদরে যোগ দেন এবং দ্রুত উন্নীত হন সংগঠনটির কমান্ডার পদে।
পরে তিনি কাশ্মীরে ফিরে আসে এবং তরুণদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ ও মতাদর্শগতভাবে প্রভাবিত করার কাজে জড়িত হন। দক্ষিণ কাশ্মীরে পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত নিজের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেন তিনি।
দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলওয়ামার বহু পরিবার জানিয়েছে, হামজার সংস্পর্শে আসার পর অনেক তরুণ ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে ‘জঙ্গিবাদে’।
জম্মু ও কাশ্মীরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হামজার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির পুলওয়ামা হামলাও।
জইশ-ই-মোহাম্মদের চালানো ওই হামলা ছিল ভারতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। লেথপোরায় সিআরপিএফের বহরে বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়া হলে নিহত হন ৪০ সদস্য।
এর কয়েক দিন পর ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বালাকোটে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালায়, যা উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় দুই দেশের মধ্যে ।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পুলওয়ামা হামলায় জড়িত জঙ্গিদের কাছে বিস্ফোরক ও গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন হামজা বুরহান।
তাকে ধরতে বড় ধরনের অভিযান চালানো হলেও তিনি আবার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত ফুরিয়েছে তার সেই ভাগ্যও।




