পেন্টাগনের গোপন নথি ফাঁস
কিউবার দিকে নজর আমেরিকার সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি

সংগৃহীত ছবি
ক্যারিবীয় সাগরের ছোট্ট দ্বীপ কিউবাকে ঘিরে আবারও ঘন হচ্ছে উত্তেজনার মেঘ। এখনো কোনো যুদ্ধের ঘোষণা হয়নি, সীমান্তে সেনা সমাবেশের ছবিও সামনে আসেনি। কিন্তু ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনার ভেতরে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য অভিযানের পরিস্থিতিতে কোন বাহিনী, কী ধরনের চিকিৎসা সহায়তা এবং কত দ্রুত সেনা মোতায়েন করা সম্ভব, সে প্রস্তুতির হিসাব কষছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে কিউবাকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ফাঁস হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ সামরিক নথির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী চার মাসের মধ্যে প্রয়োজন হলে ইউএস সাউদার্ন কমান্ডকে সহায়তা দিতে সক্ষম এমন ইউনিট চিহ্নিত করা হচ্ছে। নথিতে যুদ্ধক্ষেত্রের চিকিৎসা দল, সামরিক পুলিশ, প্রকৌশলী বাহিনী এবং রসদ সহায়তা ইউনিটের কথা উল্লেখ রয়েছে। সম্ভাব্য মোতায়েনের তালিকায় রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ফরোয়ার্ড সার্জিক্যাল টিম, সামরিক পুলিশ ব্রিগেড, কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার ইউনিট এবং যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক বাহিনী।
তবে এই প্রস্তুতিকে সরাসরি কিউবায় সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না মার্কিন কর্মকর্তারা। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, কোনো বাহিনীকে এখনো মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। নথিতেও কোনো নির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনা, লক্ষ্যবস্তু বা সেনাসংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির লক্ষ্য মূলত সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে কত দ্রুত প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি করা যায়, তা যাচাই করা। অর্থাৎ কোনো অভিযান হলে চিকিৎসা, নিরাপত্তা, পরিবহন এবং অবকাঠামোগত সহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে, তার পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হচ্ছে।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের এক মুখপাত্র সিবিএসকে বলেছেন, ‘অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে আমরা বর্তমান বা ভবিষ্যৎ অভিযান, সম্ভাব্য মোতায়েন কিংবা সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করি না।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে কমান্ড নিয়মিত বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে।
কিউবাকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও হাভানার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সেই চাপ আরও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসন কিউবার বর্তমান সরকারকে নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, হাভানা রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তবে কিউবা বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এর আগে গত মে মাসে কিউবাকে ঘিরে মার্কিন সামরিক হুমকির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল সতর্ক করেছিলেন। ১৮ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করতে পারে এবং এর পরিণতি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ হবে।
তিনি আরও বলেছিলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি নয় এবং দেশটির আত্মরক্ষার ‘পূর্ণ ও বৈধ অধিকার’ রয়েছে। গত জুলাই মাসেও দিয়াস-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। গত ৩ জুলাই স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না; কিন্তু আমরা এটিকে ভয়ও পাই না’ এবং কিউবা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।
তবে সামরিক প্রস্তুতির খবর সামনে এলেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি কিউবার সঙ্গে একটি সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। তার ভাষায়, ‘কিউবা এবং আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’



