মৃত্যর ১৩৮ বছর পর ঘরে ফিরল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইতিহাস’
- নারী অধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ, সাংবাদিক ও প্রকাশকের ছাইভস্ম ফিরছে নিজের শহর ফন্ড ডু ল্যাকে

সংগৃহীত ছবি
এক জীবনে লড়েছিলেন নারীর অধিকারের জন্য, কলম ধরেছিলেন সমাজ বদলের স্বপ্নে। অথচ মৃত্যুর পর তারই শেষ ঠিকানা হয়েছিল এক অচেনা শহরের নিঃসঙ্গ কক্ষে। ১৩৮ বছর ধরে অপেক্ষা করেছিল তার ছাইভস্ম–কেউ নিতে আসেনি, কেউ দাবি করেনি। এবার দীর্ঘ বিস্মৃতির পর অবশেষে নিজের ঘরে ফিরছেন আমেরিকার নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ লিসল লেস্টার।
উনিশ শতকের এই সাহসী নারী ছিলেন সাংবাদিক, প্রকাশক, অভিনেত্রী এবং নারী অধিকারের প্রবল সমর্থক। ১৮৮৮ সালে নিউইয়র্কে মাত্র ৫০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। জীবনের শেষ সময়ে আর্থিক দুরবস্থায় পড়ে নিঃস্ব অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর তার দেহাবশেষ নিউইয়র্কের একটি মরচুয়ারিতে পড়ে থাকে বছরের পর বছর।
এবার উইসকনসিনের ফন্ড ডু ল্যাক শহরের একদল নারী তার হারানো স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের প্রচেষ্টায় লেস্টারের ছাইভস্ম ফিরছে তার নিজের শহরে, যেখানে একসময় তিনি সমাজের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন পথ দেখিয়েছিলেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেস্টার ১৯ শতকের আমেরিকায় এমন এক সময়ে কাজ শুরু করেছিলেন, যখন প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্প ছিল মূলত পুরুষদের নিয়ন্ত্রণে। তিনি নারীদের টাইপসেটিংয়ের মতো কাজে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন এবং তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছিলেন।
লেস্টার ১৮৫৯ সালে দ্য ব্যাজার স্টেট মান্থলি নামে একটি সাময়িকী প্রকাশ শুরু করেন, যা উইসকনসিনের প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে তিনি অভিনয়ের জগতেও পরিচিতি পেয়েছিলেন। দেশ-বিদেশে ঘুরে তিনি নাট্য পরিবেশন করেছেন এবং তার দর্শকদের মধ্যে ছিলেন রাজনৈতিক ও রাজপরিবারের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও।
ফন্ড ডু ল্যাকের ঐতিহাসিক পরামর্শক ট্রেসি রাইনহার্ড বলেছেন, 'তিনি এমন একজন মানুষ, যাকে একটি মাত্র পরিচয়ে বাঁধা যায় না।' তার কথায়, লেস্টার শুধু নারী অধিকার নয়, দাসপ্রথা বিলোপসহ নানা সামাজিক ইস্যুতেও নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন।
লেস্টারের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালে। ফন্ড ডু ল্যাকের সোরোপটিমিস্ট ইন্টারন্যাশনাল সংগঠন তার জীবন ও অবদানের বিষয়ে জানতে পারে এবং তাকে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু কাজটি সহজ ছিল না। ছিল আইনি প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক জটিলতা ও অর্থের বাধা।
অবশেষে ১৩৮ বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান। আগামী ১৭ অক্টোবর ফন্ড ডু ল্যাকের ক্যালভারি সমাধিক্ষেত্রে তার স্মরণে শেষকৃত্যের আয়োজন করা হবে।
ইতিহাস কখনও কখনও দেরিতে হলেও তার ঋণ শোধ করে। লিসল লেস্টারের গল্পও যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়, যে কণ্ঠ একদিন নারীর অধিকারের জন্য লড়েছিল, ১৩৮ বছর পর সেই কণ্ঠই আবার ফিরে পেল নিজের ঘরের ঠিকানা।





