জ্ঞানেশ হটাও স্লোগানে উত্তাল কলকাতা
- লোকভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার কলকাতায় পথে নামল কংগ্রেস। ৭ অক্টোবর দুপুরে ‘জ্ঞানেশ হটাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লোকভবন অভিযানে নামেন প্রদেশ কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকেরা। লোকভবনের মূল ফটকের আগেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। ব্যারিকেড পেরিয়ে এগোনোর চেষ্টা হলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
কংগ্রেসের অভিযোগ, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় বসে ও শুয়ে পড়ে স্লোগান দেন। তাঁদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা ও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লেখা প্ল্যাকার্ড।
এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের আপত্তি। এর আগেও গত ২৫ সেপ্টেম্বরও পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কলকাতায় মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেদিন কলেজ স্ট্রিট থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের দিকে মিছিল এগোলে পুলিশ তা আটকে দেয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদেরা সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করেন। পুলিশ তাঁদের আটকালে আকাশবাণী ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ বিরোধী নেতারা। রাতে তাঁদের আটক করে পুলিশ।
এই আবহে এবার কলকাতাতেও আছড়ে পড়ল আন্দোলন। এই নিয়ে কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, ‘কেউ ছাড় পাবে না। সবাইকে ধ্বংস করে দেব। আমরা জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারি চাই। অনুমতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে।’
কংগ্রেসের অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে ভোটারদের অধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দলের দাবি, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং জ্ঞানেশ কুমারকে পদ ছাড়তে হবে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ' আমরা জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে গ্রেফতার চাই। এই আন্দোলন সহজে থামতে দেব না। এটা সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্ন।'



