সিইসি জ্ঞানেশের জবাবদিহির দাবিতে ২ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক

গান্ধী জয়ন্তীর দিন সকাল ১১টায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন একদল সমাজকর্মী, ছাত্রনেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহি ও অপসারণের দাবি তুলেছেন আয়োজকেরা। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ এখনো এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।
বুধবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকেরা এর নাম দিয়েছেন ‘জন্তর মন্তর ২.০’। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা বলেন, ভোটাধিকার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ফলে সেই অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সাংসদ মনোজ ঝা, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এন সুকুমার, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক সুকুমার দাবি করেন, এসআইআরের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার বক্তব্য, যাদের জমি, অর্থ বা স্থায়ী কাজ নেই এবং কাজের সন্ধানে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে হয়, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া বাস্তবে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি, অনগ্রসর শ্রেণি ও সংখ্যালঘুদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষমতা অতিরিক্তভাবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন করে ফর্ম পূরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার আহ্বান, শুধু দিল্লি নয়, দেশের বিভিন্ন শহরেও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা হোক। উল্লেখ্য যে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার এস সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি এসআইআর- সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য তাদের কাজকে আইনসম্মত বলে জানিয়েছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।



