পরপর তিন দিন হামলা, নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূলের কুণাল ঘোষ

সংগৃহীত ছবি
টানা তিনদিনে তিনবার হামলার অভিযোগ তুলে এবার নিরাপত্তার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুক্রবার বেলেঘাটায় এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার পথে হামলার অভিযোগের পর শনিবার হুগলির উত্তরপাড়ায় তার গাড়িতে ভাঙচুর এবং রবিবার নিজের বিধানসভা এলাকায় ফের হামলার অভিযোগ ওঠে। পরপর এই ঘটনাগুলির জেরে প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন কুণাল ঘোষ।
শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন কুণাল ঘোষ । কিন্তু উত্তরপাড়ায় তার গাড়ি ঘিরে হামলার অভিযোগ ওঠে। কুণালের দাবি, ইট, পাথর, ডিম, রড ও শাবল দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙা হয়। সামনের কাচের পাশাপাশি পাশ ও পিছনের কাচও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার শরীরেও কাচ লাগে এবং কাঁধে আঘাত পান বলে জানান বিধায়ক। তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টাও হয়েছিল বলে অভিযোগ তার। এই ঘটনার পর তিনি শ্রীরামপুরে না গিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন।
ভাঙা গাড়ি নিয়েই ভবানী ভবনে গিয়ে পুলিশ কর্তাদের বিষয়টি জানাতে চেয়েছিলেন কুণাল। কিন্তু তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। গাড়ি থেকে নেমে একা ঢোকার চেষ্টা করলেও গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশকর্মীরা জানান যে, উপর থেকে অনুমতি না থাকায় তাঁকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। পরে ইমেল করে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ জানান তিনি। কুণালের অভিযোগ যে, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও ব্যবস্থা নেয়নি কোনও।
এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রবিবার সকালে ফের হামলার অভিযোগ ওঠে । নিজের বিধানসভা এলাকার একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে ফুলবাগান এলাকায় ১৫- ২০ জনের বাইকবাহিনী তাঁর গাড়ি অনুসরণ করে পথ আটকায় বলে দাবি করেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে রিভলভার ছিল। হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙা হয়। একজন তাঁর কলার ধরে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামলাতে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের অস্ত্র বের করতে হয়। পরে নারকেলডাঙা থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন বিধায়ক। এই ঘটনায় মারধর ও অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
পরপর হামলার অভিযোগের পর, সোমবার কুণালের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে বিষয়টি তোলেন। কুণালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়। এছাড়াও দ্রুত শুনানির আবেদনও করেন তার আইনজীবী। বিচারপতি মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে জানান, নিয়ম মেনেই মামলাটি শুনানির তালিকায় আসবে।
কুণাল বারবার দাবি করেছেন, তাকে খুনের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর পিছনে বিজেপির লোকজন রয়েছে। তার কথায়, হামলা করে বা ভয় দেখিয়ে তাকে থামানো যাবে না। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে। বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার হামলার নিন্দা করলেও দাবি করেছেন যে, ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের লোকজনই যুক্ত থাকতে পারে। তার বক্তব্য, দলের দুই শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের সন্দেহ।
অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে, ১৮ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর বারবার সশস্ত্র হামলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, দল বদল করতে অস্বীকার করার কারণেই কি একজন বিধায়ককে এমন হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ এবং মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তবে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কুণালের অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর দাবি, সংবাদমাধ্যমের নজরে থাকার জন্য কুণাল নিজেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং মানুষকে উসকানি দেন।



