জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে জয়েন্ট পিটিশন দিলেন বিরোধী নেতারা
- মঙ্গলবারই শুনানির সম্ভাবনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদলে তৈরি পুতুল হাতে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে ১২ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা।
দিল্লির রাজপথ যেন জনসমুদ্র । এবার সুপ্রিম কোর্টের দরজায় ও পৌঁছে গেল ইন্ডিয়া জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সোমবার রাজধানীতে বিশাল মিছিলের পরে শীর্ষ আদালতে পিটিশন দাখিল করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব সহ ১১জন বিরোধী নেতা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর), ভোটারদের নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিরোধী শিবির। মঙ্গলবারই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন মল্লিকার্জুন খড়্গে, সৌগত রায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী প্রসাদ যাদব, সঞ্জয় রাউত, এম এ বেবি, ডি রাজা, মহুয়া মাজি, সুপ্রিয়া সুলে, মহম্মদ বশির।
সোমবার দুপুরে ‘চলো দিল্লি - মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে নামে ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে তৈরি হয় বিপুল জমায়েত। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে মিছিল এগিয়ে যায় সুপ্রিম কোর্টের দিকে। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি ছাড়াও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি ছিল এই কর্মসূচির কেন্দ্রে।
রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধীদের এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন খারিজ হওয়ার ঘটনাও। রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি আদালতে বিচারাধীন থাকায় প্রশাসনিক স্তরে বৈঠক করতে রাজি হননি প্রধান বিচারপতি। পরিবর্তে, বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বিরোধী নেতৃত্বকে।
সেই পথেই এ বার পিটিশন দাখিল করল বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ।
রাজপথের প্রতিবাদ থেকে আইনি লড়াই,জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে চাইছে ইন্ডিয়া জোট। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে।



