গঙ্গার পানিতে বন্যার চাপ, ফারাক্কার সব গেট খুলতে পশ্চিমবঙ্গকে অনুরোধ বিহারের

২০২৪ সালে বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টির পর গঙ্গার পানি বাড়লে ফারাক্কার সব গেট খোলা হয়েছিল- সংগৃহীত ছবি
গঙ্গার পানি বাড়ায় ভারতের বিহারে বন্যার শঙ্কা তীব্র হচ্ছে। আর সেই চাপ এসে পড়েছে ফারাক্কা বাঁধে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ার জন্য রবিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে জরুরি অনুরোধ জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। তার দাবি, গেট খুলে দিলে গঙ্গার পানি দ্রুত প্রবাহিত হবে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সম্রাট চৌধুরী লিখেছেন, ‘গঙ্গা নদীর পানি বাড়তে থাকা এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আজ পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি এবং ফারাক্কা ব্যারাজের সব কটি গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘ফারাক্কা ব্যারাজের গেট খুলে দিলে গঙ্গার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিহারের নিরাপত্তা ও ত্রাণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টেও বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টির পর গঙ্গার পানি বেড়ে গেলে ফারাক্কার ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছিল। একসঙ্গে প্রায় ১১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়ার খবরে বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও সে সময় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছিল, এতে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
সেই উদ্বেগ চুক্তি নবায়নের আলোচনায় তোলার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী শনিবার সংবাদমাধ্যমে এ কথা জানান। এর আগেরদিন, ২১ আগস্ট শুক্রবার নয়াদিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, বিজয় কুমার চৌধুরী এবং জনতা দল ইউনাইটেডের রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনসহ পররাষ্ট্র, জলশক্তি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ছিলেন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় ফারাক্কা ব্যারাজ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে পানির বণ্টন করা হয়। তবে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কয়েক দফা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
২০১১ সালে প্রস্তাবিত একটি চুক্তিতে তিস্তার পানির ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভারত এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বাকি পানি অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় বণ্টনের প্রস্তাব ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে ওই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি।
সূত্র: এএনআই, টাইমস অব ইন্ডিয়া







