গঙ্গা চুক্তি নবায়নে গুরুত্ব পাবে বিহারের দাবি, আশ্বাস জয়শঙ্করের

এস জয়শঙ্কর- সংগৃহীত ছবি
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে তিন দশকের পুরনো সমঝোতা যখন নবায়নের আলোচনায়, ঠিক তখনই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি নতুন দাবি সেই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিহার বলছে, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির সময় রাজ্যটির স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এবার সেই আপত্তি চুক্তি নবায়নের আলোচনায় তোলার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে শুধু ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনাই নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ পানি রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী শনিবার সংবাদমাধ্যমে এ কথা জানান। এর আগেরদিন, ২১ আগস্ট শুক্রবার নয়াদিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, বিজয় কুমার চৌধুরী এবং জনতা দল ইউনাইটেডের রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনসহ পররাষ্ট্র, জলশক্তি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ছিলেন। আলোচনায় উঠে আসে বিহারের পানি, সেচ ও বন্যা ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যা।
বৈঠক শেষে শনিবার বিজয় চৌধুরী দাবি করেন, তিন দশক আগে ভারত-বাংলাদেশ পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের সময় বিহারের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, ‘ফারাক্কা বাঁধে পৌঁছানো পানির বেশির ভাগই বিহারের অববাহিকা অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পানীয় জল, সেচ ও শিল্পকারখানার ব্যবহারের জন্য রাজ্যটি তার ন্যায্য হিস্যা পায়নি।’
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের এসব উদ্বেগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিটি সই হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তিটির বর্তমান মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সালেই শেষ হওয়ার কথা। চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কায় গঙ্গার প্রবাহের ভিত্তিতে শুকনো মৌসুমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি ভাগ হয়।
এদিকে চুক্তি নবায়ন নিয়ে এরই মধ্যে আরও সরব হয়েছেন বিহারের জেডিইউ নেতা সঞ্জয় ঝা। ২১ আগস্ট তিনি বর্তমান কাঠামোয় চুক্তি নবায়নের বিরোধিতা করে বলেছেন, গত ৩০ বছরে বিহারের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার বক্তব্য নতুন চুক্তি হলে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিহারের পানি নিরাপত্তার বিষয়টিও যেন বিবেচনায় রাখা হয়।
এ ছাড়াও এই বৈঠকে নেপালে কোশীসহ বিভিন্ন নদীর ওপর প্রস্তাবিত জলাধার ও বাঁধ নির্মাণের বিষয়ও আলোচিত হয়। এতে বিহারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন জয়শঙ্কর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ পানি চাহিদা গঙ্গা চুক্তির নবায়ন আলোচনায় নতুন শর্ত বা পরিবর্তনের দাবি তৈরি করতে পারে। যদিও এখনো নতুন চুক্তির চূড়ান্ত রূপ কী হবে, তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতে শনিবার ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামের একটি অনুষ্ঠানেও জয়শঙ্কর বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সরাসরি অবস্থান না জানিয়ে তিনি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক টেকসই করতে হলে পারস্পরিক স্বার্থকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি ‘কমন গ্রাউন্ড’ খুঁজে নিতে হবে।







