কলকাতার অভিশপ্ত সেই হোটেল শিখা-ইনের মালিক গ্রেপ্তার
- অগ্নিকাণ্ডের পর পালিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডে

১৯ আগস্ট, কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনে থাকা হোটেল শিখা-ইনে রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে আগুন লাগে।
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের অভিশপ্ত সেই হোটেল শিখা-ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার তিনদিন পর গ্রেপ্তার হলেন হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্র। শনিবার কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। কলকাতা পুলিশের সঙ্গে আগামীর সময় যোগাযোগ করলে তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল মালিক কলকাতা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে পুলিশ তার দুটি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। ফলে নগদ অর্থের প্রয়োজন দেখা দিলে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। বেহালার বাড়িতে ফেরার পর শনিবার সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে ১৯ আগস্ট, কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনে থাকা হোটেল শিখা-ইনে রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে আগুন লাগে। ভবনটিতে একাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ঘন ধোঁয়ায় ভরে যায় ভবনের ভেতর। প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হলেও প্রাণ হারান নয়জন। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই শিখা-ইনের মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, তিনি ঘটনার পর আত্মগোপন করে ছিলেন। তদন্তে আরও উঠে আসে, শিখা-ইন ছাড়াও বীরেশ্বর মিত্রের কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে আরেকটি হোটেল এবং দিঘায় আরও দুটি হোটেল রয়েছে। পুলিশ তাঁর মালিকানা ও পরিচালনাসংক্রান্ত নথিও ইতিমধ্যেই যাচাই শুরু করেছে। তবে মামলার তদন্তে মালিক ও লিজধারীর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগেই শিখা-ইনের লিজধারী আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতা পুলিশ। হোটেলটির ম্যানেজার ও এক কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবু জাফর প্রায় পাঁচ মাস আগে তার স্ত্রীর নামে হোটেলটি লিজ নিয়েছিলেন এবং মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ৪০ হাজার রুপি।
অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা
নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা
গেছে যে, শিখা-ইনের ফায়ার সার্ভিসেরও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছিল না। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও অডিটও হয়নি। জরুরি বহির্গমন পথ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। একটি দেয়াল নির্মাণ করে সেই পথ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। যা কার্যত উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।
এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কলকাতা প্রশাসন শহরের হোটেল এবং গেস্টহাউসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে।পুলিশ, দমকল বিভাগ ও কলকাতা পৌর করপোরেশন বিভিন্ন এলাকায় হোটেল পরিদর্শন শুরু করেছে। অন্তত ৫০ টি হোটেল ও গেস্টহাউসকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোথাও নিয়ম না মানার অভিযোগ পাওয়া গেলে লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের গ্রেপ্তার, লিজধারী ও হোটেলকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং কলকাতাজুড়ে হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে অভিযান - সব মিলিয়ে ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের হোটেল ব্যবসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের গাফিলতির চিত্র সামনে এসেছে।






