মোদিকে সমর্থনের কথা জানালেন তৃণমূলের ২০ সংসদ সদস্য

দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকে যখন ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, তখনই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে তৃণমূলের একদল ‘বিদ্রোহী’ সংসদ সদস্যের পদক্ষেপে। তাদের দাবি, তৃণমূলের ২০ জন সংসদ সদস্য আগামী তিন বছর কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবেন।
গতকাল সোমবার দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের একাধিক অসন্তুষ্ট এমপি। ওই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। বৈঠকের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর জল্পনা আরও বেড়েছে। সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শর্মিলা সরকার, সুখেন্দুশেখর রায়, জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া, অরূপ চক্রবর্তী, অসিত মাল ও কালীপদ সোরেন-সহ একাধিক সাংসদকে দেখা গিয়েছে।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, তাদের গোষ্ঠীর ২০ জন এমপি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। শর্মিলা সরকারের বক্তব্য, এমপিদের এই নতুন গোষ্ঠী সংসদে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবে। তবে আপাতত কেউ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। কাকলি ঘোষ দস্তিদারও একই কথা জানিয়ে বলেছেন, তৃণমূলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করলেও বর্তমানে দলের ভেতরে থেকে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই তাদের এই সিদ্ধান্ত।
গত মে মাসেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে গুরুত্বহীন বলে দেখাতে চেয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, যারা নির্বাচনে জিতেছেন, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও দলের প্রতীককে সামনে রেখেই জিতেছেন। তাই এখন তাদের এই অবস্থান মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিজেপির তরফে তাপস রায়ের দাবি, দলের পুরোনো নেতাদের গুরুত্ব কমে যাওয়া এবং নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষের জেরেই তৃণমূলের মধ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।




