বিএসএফকে ১ হাজার একরের বেশি জমি দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়
বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো জোরদার করার লক্ষ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে এক হাজার একরেরও বেশি জমি তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। চলতি বছরের মে মাসে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে তার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বেড়া নির্মাণের জন্য ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাব বলছে, সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য ৩৩৭ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে, যা মোট হস্তান্তরিত জমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশপরগনা, যেখানে ৪২ দশমিক ৭ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ২৪১ দশমিক ০৩ একর জমি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কোচবিহারে ১৩৫ দশমিক ৩৩ একর, মালদায় ১৭৬ দশমিক ৭৮ একর, নদীয়ায় ৯৫ দশমিক ১১ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৬ দশমিক ৪১ একর, দার্জিলিংয়ে ৪ দশমিক ৩১ একর, উত্তর দিনাজপুরে ৬ দশমিক ৬১ একর এবং জলপাইগুড়িতে ২ দশমিক ১৭ একর জমি সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণের কাজে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নিরাপদ সীমান্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য আরও সুরক্ষিত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত-সংক্রান্ত অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার ব্যাপারেও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে ছিল। পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের সীমান্ত প্রকল্পের জন্য জমি দিতে অনীহার অভিযোগ উঠেছিল। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্ট ৯টি সীমান্তবর্তী জেলায় বিএসএফের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।
এরপর এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বিএসএফকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হিসেবেই কয়েক মাসের মধ্যে এক হাজার একরেরও বেশি জমি হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।




