অবহেলায় ধ্বংসের পথে চুরুলিয়ায় নজরুলের জন্মভিটার স্মৃতি

সংগৃহীত ছবি
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মভিটা পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের চুরুলিয়ায়। কবির স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে নজরুলপ্রেমী ও বুদ্ধিজীবী মহলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক স্থানটি আজ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ধ্বংসের পথে কবির স্মৃতিবিজড়িত বহু পুরনো নিদর্শনও।
চুরুলিয়ায় কবির পৈতৃক বাড়ি ও জন্মভিটার বর্তমান অবস্থা হতাশ করছে পর্যটক ও গবেষকদের। সেখানে গিয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরেই কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংস্কার করে আকর্ষণীয় পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নজরুলপ্রেমী ও গবেষকেরা। তবে সেই দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
নজরুলপ্রেমীদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও নজরুল একাডেমির যৌথ উদ্যোগে কবির জন্মভিটার দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুরো এলাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। এতে নতুন প্রজন্ম কবির জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
কবির মূল জন্মভিটার ওপর প্রতিষ্ঠিত ‘নজরুল একাডেমি’ নামের জাদুঘরটিরও এখন আর অস্তিত্ব নেই। একসময় সেখানে কবির ব্যবহৃত তানপুরা, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, পোশাক, পাণ্ডুলিপি, পদ্মভূষণসহ নানা দুর্লভ পদক ও পুরস্কার সংরক্ষিত ছিল। সংস্কারের কথা বলে এসব নিদর্শন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে জন্মভিটার সংস্কারকাজ এগোয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চুরুলিয়ার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সংস্কারের অজুহাতে জাদুঘরের বিভিন্ন নিদর্শন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।
নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণেই কবির সহধর্মিণী প্রমীলা দেবীর সমাধি রয়েছে। এর কাছেই রয়েছে কবির শৈশবের পাঠশালা, খেলার মাঠ, পুরনো মসজিদ ও কবির ব্যবহৃত পুকুর। এসব স্থানও সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চুরুলিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উদ্যোগে একটি যুব আবাসও নির্মাণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে সারা বছর থাকার ব্যবস্থা নেই। শুধু নজরুল মেলার সময়ই যুব আবাসে বুকিং নেওয়া হয়। বছরের বাকি সময় এটি তালাবদ্ধ থাকে।
সব মিলিয়ে কবিতীর্থ চুরুলিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশ স্থানীয় বাসিন্দা ও নজরুলপ্রেমীরা। তাদের দাবি, কবির স্মৃতি ও সাহিত্যকর্মের সঙ্গে জড়িত স্থানগুলো দ্রুত সংস্কার করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনসহ অন্যান্য সাহিত্যিক তীর্থের আদলে চুরুলিয়াকেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। নজরুলের স্মৃতি ও তার সাহিত্যিক উত্তরাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে জন্মভিটের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও যথাযথ সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।




