দিল্লির আকাশে পুতিনের উড়ন্ত দুর্গ

ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের ভিড়ে নজর কাড়ল একটি বিশেষ বিমান। দিল্লির আকাশে নামল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সেই বিখ্যাত ‘ডুমসডে প্লেন’, যাকে অনেকে বলেন ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’। অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, গোপন যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সংকটকালে আকাশ থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এই বিমান নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
গত শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তিন দিনের ভারত সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আসা রুশ প্রেসিডেন্টের সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে তার ব্যবহৃত বিশেষ বিমান ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ।
সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের মতো দেখতে হলেও এই বিমান আসলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য বিশেষভাবে পরিবর্তিত একটি উড়ন্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। ‘ডুমসডে প্লেন’ নামটি এসেছে মূলত এর সম্ভাব্য ভূমিকা থেকে, বড় ধরনের সামরিক বা জাতীয় সংকটের সময়ও যাতে রাশিয়ার নেতৃত্ব নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বিমানটিকে অনেক সময় ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বলা হয়। কারণ এতে এমন যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে মাটির সামরিক ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগ রাখা সম্ভব বলে জানা যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি একটি আকাশভিত্তিক কমান্ড সেন্টারের মতো কাজ করতে পারে।
পুতিনের এই সফরে নিরাপত্তার বিষয়টি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জানা গেছে, রুশ প্রেসিডেন্ট একটি নয়, একই ধরনের দুটি আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানের বহর নিয়ে যাত্রা করেন। নিরাপত্তার কৌশল হিসেবে দুটি বিমান একসঙ্গে উড়তে পারে, যাতে কোন বিমানে প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, তা সহজে নিশ্চিত করা না যায়।
বিমানটিতে রয়েছে বিশেষ সুরক্ষিত যোগাযোগব্যবস্থা, উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং দীর্ঘ দূরত্বে ওড়ার সক্ষমতা। এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের জন্য আলাদা কক্ষ, বৈঠকের জায়গা এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুবিধাও রয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এর প্রযুক্তিগত বিবরণ গোপন রাখা হয়।
পুতিনের এই বিশেষ বিমানের উপস্থিতি শুধু নিরাপত্তার প্রতীক নয়, কূটনৈতিক বার্তাও বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যে ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনের অংশগ্রহণকে মস্কোর আন্তর্জাতিক উপস্থিতি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনের পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন স্বাগতিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত সমীকরণের মধ্যে এ সম্মেলনের গুরুত্ব বেড়েছে।
পুতিনের ‘ডুমসডে প্লেন’ তাই শুধু একটি বিমান নয়; এটি রাশিয়ার নিরাপত্তা দর্শন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তি প্রদর্শনের একটি প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।



