চার বছরে দল বদল ভারতের ১১১ সাংসদ ও বিধায়কের
- শীর্ষে নাগাল্যান্ড ও পশ্চিমবঙ্গ

প্রতীকী ছবি
২০২২ থেকে ২০২৬ এই চার বছরে ভোটে জিতে সংসদ বা বিধানসভায় যাওয়ার পর দল বদল করেছেন ভারতের অন্তত ১১১ জন সাংসদ ও বিধায়ক। তাদের মধ্যে ২৬ জন লোকসভার সদস্য, সাতজন রাজ্যসভার সদস্য এবং ৭৮ জন বিধায়ক। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) ও ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এডিআর হল একটি বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা।
তালিকায় সবচেয়ে বেশি দল বদলের ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তর- পূর্বের রাজ্য নাগাল্যান্ডে। সেখানে ৩২ জন বিধায়ক দল পরিবর্তন করেছেন। আর এরপরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যটিতে ২০ জন লোকসভা সদস্যের দল বদলের কথা জানিয়েছে এডিআর। অর্থাৎ দুই রাজ্য মিলিয়েই ৫২টি ঘটনা। যা মোট সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।
অন্যদিকে নাগাল্যান্ডের ৩২টি ঘটনাই বিধায়কদের ঘিরে। এডিআরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, এর বড় অংশ ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (এনডিপিপি) এবং নাগা পিপলস ফ্রন্টের (এনপিএফ) রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত। ভোটের পরে এনডিপিপি থেকে ২৫ জন সাংসদ ও বিধায়ক বেরিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, এনপিএফে যোগ দিয়েছেন ৩২ জন।
অবশ্য পশ্চিমবঙ্গে ঘটনাগুলির ধরন একটু আলাদা। এডিআরের হিসাবে, ২০ জনই লোকসভার সদস্য এবং তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তাঁরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) যোগ দেন। ওই সাংসদেরা এটিকে দলীয় একীভূতকরণ হিসেবে দাবি করেছেন। বিষয়টি এখনও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিবেচনার আওতায় রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের পরের অবস্থানে রয়েছে তেলঙ্গানা। সেখানে ভারত রাষ্ট্র সমিতি থেকে নির্বাচিত নয়জন বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। গোয়ায় কংগ্রেসের আট বিধায়ক বিজেপিতে গিয়েছেন। পাঞ্জাবেও আটজন সাংসদ ও বিধায়ক দল বদলেছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন রাজ্যসভার সদস্য এবং দুজন বিধায়ক। মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা থেকে নির্বাচিত ছয়জন লোকসভা সদস্য একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন। মেঘালয়ে ছয়জন এবং মণিপুরে পাঁচজন বিধায়ক দল বদল করেছেন। অরুণাচল প্রদেশ ও গুজরাটে চারজন করে এবং হিমাচল প্রদেশ ও রাজস্থানে দুজন করে সাংসদ ও বিধায়কের দল বদলের তথ্যও রয়েছে।
কোন দল থেকে সবচেয়ে বেশি সাংসদ ও বিধায়ক বেরিয়ে গেছেন, সেই হিসাবেও এগিয়ে এনডিপিপি। তাদের ২৫ জনের পর তৃণমূলের ২০ জন এবং কংগ্রেসের ১৯ জন দল বদল করেছেন। এই তিন দল থেকেই মোট ৬৪ জন বেরিয়ে গেছেন। যা মোট সংখ্যার ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে নতুন সদস্য পাওয়ার হিসাবে এনপিএফে যোগ দিয়েছেন ৩২ জন, বিজেপিতে ২৯ জন এবং এনসিপিআইয়ে ২০ জন। এই তিন দল মিলে ৮১ জন নতুন সাংসদ ও বিধায়ক পেয়েছে।
তবে এডিআর বলেছে, এই হিসাবকে চূড়ান্ত তালিকা বলা যাবে না। কারণ সাংসদ বা বিধায়কদের দল পরিবর্তনের তথ্য রাখার জন্য কেন্দ্র বা রাজ্য স্তরে কোনও পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্যভান্ডার নেই। এডিআরের প্রস্তাব, সাংসদদের দলত্যাগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের বদলে রাষ্ট্রপতি এবং বিধায়কদের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের হাতে দেওয়া হোক। তবে সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলত্যাগের আবেদন নিষ্পত্তি এবং উপ- নির্বাচনে জেতার আগে দল বদল করা ব্যক্তিদের সরকারি পদে বসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।



