শির নিরাপত্তায় হুলুস্থুল কাণ্ড ভারতের

ছবি: রয়টার্স
সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে পা রাখলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তার নিরাপত্তায় রীতিমতো ‘হুলুস্থুল কাণ্ড’ করেছে ভারত। ২৪ ঘণ্টার এ সফরে তাকে নিরাপদ রাখতে চীনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর যৌথ সমন্বয়ে নজিরবিহীন ও বহুমুখী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে দিল্লি। নয়াদিল্লির অভিজাত ‘তাজ প্যালেস’ হোটেলে উঠেছেন শি। তার সফর উপলক্ষে হোটেলটির সব কক্ষ বুক করা হয়েছে এবং পুরো এলাকাটিকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দিল্লি। এনডিটিভি।
এখানেই শেষ নয়। হোটেল প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশে কোনো ধরনের পারমাণবিক, তেজস্ক্রিয় কিংবা জৈব-রাসায়নিক হুমকি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য মোতায়েন করেছে বিশেষ দল। এমনকি হোটেলের নিচের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো পরীক্ষা করতেও গাফিলতি করেনি মোদি সরকার।
এয়ার চায়না পরিচালিত বিশেষ বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে গতকাল দুপুরে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন শি। এটি তার মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে। এই উড়োজাহাজে রয়েছে এনক্রিপ্টেড স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা দিয়ে প্রেসিডেন্ট সরাসরি চীনা সরকার ও সামরিক কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। এ ছাড়া বিমানটিতে হুমকি শনাক্তকারী প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিকর ইলেকট্রোম্যাগনেটিক প্রভাব থেকে ভেতরের ইলেকট্রনিকস রক্ষার বিশেষ প্রলেপ রয়েছে।
গাড়ির ভেতর যেন চলন্ত দুর্গ: এনডিটিভিসহ আরও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, শির দিল্লি সফরে চলাচলের জন্য আনা হয়েছে চীনের বিশেষ সুরক্ষিত রাষ্ট্রীয় গাড়ি ‘হংছি এন৭০১’। সঙ্গে একটি ব্যাকআপ গাড়ি এবং অত্যাধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জামও। সফরের প্রায় ১০ দিন আগেই চীন থেকে একটি বিশেষ কার্গো আনা হয় নয়াদিল্লিতে।
চীনের ক্ষমতার প্রতীক: ‘হংছি’ শব্দের অর্থ ‘লাল পতাকা’। চীনে নামটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও ক্ষমতার দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি নির্মাতা সংস্থা এফএডব্লিউ ১৯৫৮ সাল থেকে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য তৈরি করে আসছে বিশেষ গাড়ি। এন৭০১ সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে বিক্রি হওয়া গাড়ি নয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ মিটার লম্বা গাড়িটি আগে শি জিনপিংয়ের রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও হংকং সফরেও ব্যবহৃত হয়েছে।
গুলির আঘাতেও সুরক্ষিত: গাড়িটির পূর্ণ প্রযুক্তিগত বিবরণ চীন সরকার বা নির্মাতা সংস্থা প্রকাশ করেনি। তবে এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এন৭০১-এর শরীরে রয়েছে অতিরিক্ত শক্তিশালী বর্ম। গুলির আঘাত প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ কাচ এবং সুরক্ষিত বহিরাবরণ।
চাকা ফুটলেও থামবে না: এন৭০১-এ রয়েছে ২১ ইঞ্চির বিশেষ সুরক্ষিত চাকা। গুলিতে চাকা ক্ষতিগ্রস্ত বা ফুটো হয়ে গেলেও গাড়ি যাতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে পারে, সেই প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ হামলার সময় গাড়ির চাকা নষ্ট হয়ে গেলেও যাত্রীদের বিপদে ফেলে থেমে যাওয়ার আশঙ্কাও কম।
বিস্ফোরণ থেকে সুরক্ষা: গাড়িটির নিচের অংশও বিশেষভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। রাস্তার নিচে পেতে রাখা বিস্ফোরক কিংবা ছোট বিস্ফোরণের অভিঘাত যাতে সরাসরি গাড়ির ভেতরে পৌঁছাতে না পারে, সেই অনুযায়ী তলদেশ তৈরির দাবি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধানের গাড়ি হিসেবে এই সুরক্ষাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।



