তৃণমূলের কোষাগারের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে?

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল আর্থিক তহবিল। দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের পাশাপাশি কয়েকশ কোটি টাকার দলীয় কোষাগারের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও কানাঘুষা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অডিট রিপোর্ট ও বিভিন্ন স্বচ্ছতা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবছরে তৃণমূল কংগ্রেসের আয় কয়েক হাজার কোটি টাকার ঘর ছুঁয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দলটির মোট আয় ছিল ২১৯.৩৫ কোটি টাকা। তার আগের বছর আয় হয়েছিল ৬৪৬.৩৯ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ছিল ৩৩৩.৪৫ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫৪৫.৭৪ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল বন্ড একটা ভূমিকা নিয়েছে। বিজেপি যেমন এই বন্ডের মাধ্যমে বিপুল অর্থ পার্টির তহবিলে যোগ করেছে, তেমনই অর্থায়নে দ্বিতীয় স্থানে তৃণমূল। বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্ডের মাধ্যমে দলটির প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে ইলেক্টোরাল বন্ড ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার পরেও তৃণমূলের অনুদান প্রবাহ থামেনি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মাধ্যমে দলটি ১০২ কোটি টাকার বেশি অনুদান পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট থেকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দলীয় সংকটের মধ্যে তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আর্থিক সম্পদের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও দলের একাংশের দাবি, দলীয় তহবিলের ব্যবহার ও পরিচালনা নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যেই হয়, ফলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে সেই অর্থের নিয়ন্ত্রণ বদলে যাওয়া সহজ নয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের প্রতীক, সাংগঠনিক স্বীকৃতি এবং আর্থিক সম্পদের প্রশ্ন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট যত গভীর হবে, ততই দলীয় অর্থ ও সম্পদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়বে।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ভর করবে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়ার উপর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তন নির্বাচন কমিশন আধিকারিকের কথায়, ‘স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে সাংবিধানিক ও আইনি নথির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।’




